চাঁপাইয়ে নলকূপ থেকে বের হচ্ছে ফুটন্ত পানি ও গ্যাস

তারেক রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইয়ে নলকূপ থেকে বের হচ্ছে ফুটন্ত পানি ও গ্যাস

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নলকূপ থেকে বের হচ্ছে ফুটন্ত পানি ও গ্যাস। এতে দীর্ঘদিন ধরেই সুপেয় পানির সংকটে ভুগছে এখানকার মানুষ। ভূগর্ভস্থ পানিতে আর্সেনিক, আয়রন ও অতিরিক্ত খনিজ উপাদানের কারণে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নিরাপদ পানির অভাব দেখা দিয়েছে। শহরের দুটি টিউবওয়েলে পানির জন্য সিরিয়াল থাকে সারা দিনই।

এমন পরিস্থিতিতে নিরাপদ ও আর্সেনিকমুক্ত পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কয়েক বছর আগে পৌর এলাকায় স্থাপন করা হয়েছিল গভীর অনুসন্ধানমূলক ডিপ টিউবওয়েল। কিন্তু সেই টিউবওয়েলে বের হচ্ছে ফুটন্ত পানি ও গ্যাস। এতে করে জনমনে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি কয়েকটি ডিপ টিউবওয়েল থেকে অস্বাভাবিকভাবে গরম ও লবণাক্ত পানি উঠছে। একই সঙ্গে পানির কলের আশপাশে দেশলাই জ্বালালে আগুনের শিখা দেখা যাওয়ার দাবিও করছেন স্থানীয়রা। এমন অস্বাভাবিক ঘটনায় এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উদ্বেগ, আতঙ্ক ও নানা প্রশ্ন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার অর্থায়নে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় তিনটি ডিপ টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য ছিল পৌর এলাকার বাসিন্দাদের জন্য আর্সেনিকমুক্ত ও নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা। বিশেষ করে যেসব এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ পানির সংকট রয়েছে, সেখানে বিকল্প উৎস তৈরির লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের কয়েক বছরের মাথায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে এর কার্যকারিতা নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, টিউবওয়েলের পানি এখন শুধু ব্যবহার অনুপযোগীই নয়, বরং তা স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে দূরের এলাকা থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করছেন। এতে যেমন ভোগান্তি বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে বাড়তি খরচও। পৌরসভার বাসিন্দারা জানান, রান্নার সময় এই পানি ব্যবহার করলে খাবারের স্বাদ পরিবর্তন হয়ে যায়। কাপড় ধোয়ার ক্ষেত্রেও নানা সমস্যা হচ্ছে। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, বাসনপত্রে সাদা দাগ পড়ে যাচ্ছে এবং পানি কিছুক্ষণ রেখে দিলে ভিন্ন ধরনের গন্ধও পাওয়া যায়। এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ পানিতে ক্লোরাইডের স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি লিটারে ১৫০ থেকে ৬০০ মিলিগ্রাম থাকার কথা। কিন্তু আলোচিত পানির নমুনা পরীক্ষায় ক্লোরাইডের মাত্রা প্রায় ১ হাজার ২৮০ মিলিগ্রাম পাওয়া গেছে, যা স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ক্লোরাইড পানির স্বাদ পরিবর্তনের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার সরকার বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। পানির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন