জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিদ্যুতের খুঁটি হেলে পড়া এবং গাছের ডালপালা পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় অন্তত ৬০ গ্রামে দুই দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সকালে ঝড়ের পর থেকেই এসব এলাকার বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত তা স্বাভাবিক হয়নি। এতে উপজেলার দেড় লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। টানা বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেটসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। এতে যোগাযোগসহ দৈনন্দিন কাজে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া কালবৈশাখীতে শতাধিক ঘরবাড়ি, কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। পাশাপাশি পাঁচ শতাধিক গাছপালা উপড়ে পড়ে। ঝড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে লাইনের ওপর পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়ায় উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা বিদ্যুদ্বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
দুই দিনেও বিদ্যুৎ না ফেরায় উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের হিদাগাড়ী, পাকরুল, কোয়ালিকান্দি, তেঘরিয়া, ফাজিলপুর, নব্যচর, ঝাড়কাটা; কড়ইচড়া ইউনিয়নের লালডোবা, নলছিয়া, পশ্চিম জটিয়ারপাড়া, মহিষবাথান, বাগলেরগড়, ভেলামারি, ভাংবাড়ী; গুনারীতলা ইউনিয়নের উত্তর জোড়খালী, মোসলেমাবাদ, গোপালপুর, গুনারীতলা, কাতলামারি, সিংদহ, জাঙ্গালিয়া; বালিজুড়ী ইউনিয়নের নাংলা, তারতাপাড়া, সুখনগরী, মির্জাপুর; জোড়খালী ইউনিয়নের হাটমাগুড়া, ফুলজোড়, আতামারী; মাদারগঞ্জ পৌরসভার বালিজুড়ী পূর্বপাড়া, গাবেরগ্রাম, চাঁদপুরসহ অন্তত ৬০ গ্রামের দেড় লক্ষাধিক মানুষ অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছে। এছাড়া জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল ও কয়ড়া সাব-জোনাল অফিসের আওতায় বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার কাজলা ইউনিয়নের চরঘাগুয়া, জামথল, কাজলা, পাকেরদহ, টেংরাকুড়া; বোহাইল ইউনিয়নের বোহাইল, আউলাকান্দি, ধারাবার্ষা, শংকরপুর; কর্ণিবাড়ী ইউনিয়নের পুটিয়াপাড়া, চালুয়াবাড়ি ইউনিয়নের মানিকদাইড়সহ অন্তত ২০ গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।
গুনারীতলা ইউনিয়নের জোড়খালী গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে গেছে। ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংসও নষ্ট হচ্ছে।
একই ইউনিয়নের গোপালপুর এলাকার মিজানুর রহমান বলেন, ঝড়ো বাতাসে গাছ উপড়ে পড়ে বিদ্যুতের খুঁটি ও সংযোগ তার ছিঁড়ে যাওয়ায় দুদিন ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় আমাদের ফোনে চার্জ দিতে পারছি না, যে কারণে কেউ কারো সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারছি না।
চরপাকেরদহ ইউনিয়নের ফাজিলপুর এলাকার অটোচালক মহিবুল হাসান বলেন, এমনিতেই আমাদের এলাকায় বিদ্যুৎ থাকে না, তার মধ্যে ঝড়ের কারণে গত দুদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। অটোরিকশা চার্জ দিতে পারছি না, এজন্য সব কাজ বন্ধ হয়ে আছে।
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গাছ উপড়ে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়ায় সাতটি খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৭০টি স্থানে তার ছিঁড়ে গেছে এবং প্রায় ১৩০টি স্থানে খুঁটি ও তারের ওপর গাছ পড়ে আছে। সেগুলো অপসারণ ও মেরামতে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে।
তিনি আরো বলেন, জনবল সংকট ও বৃষ্টির কারণে মেরামতকাজে বিলম্ব হচ্ছে। তবে দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কর্মীরা গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন।
মাদারগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, কালবৈশাখীতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


সবুজায়ন-সৌন্দর্যবর্ধনে সীতাকুণ্ডে পর্যটনশিল্পের নতুন সম্ভাবনা