বাবার একাধিক বিয়ে বিরোধে শ্রমিকদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

উপজেলা প্রতিনিধি, আমতলী (বরগুনা)

বাবার একাধিক বিয়ে বিরোধে শ্রমিকদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২
নিহত শ্রমিকদল সভাপতি রিপন কাজী

বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি রিপন কাজী (৩৫) খুন হয়েছেন। হত্যাকাণ্ডে তার বাবা মিজানুর ওরফে ভুট্টো কাজীর বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ এবং পারিবারিক ও রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ১২টার দিকে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গগণ খা নামক এলাকার ফারুক ডাক্তারের বাড়ির সামনে খুনের ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

নিহত রিপন কাজীর বাড়ি বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কালীবাড়ী গ্রামে। তিনি ইউনিয়ন শ্রমিকদলের সভাপতি ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, রিপন কাজী দীর্ঘদিন ধরে তার বাবার একাধিক বিয়ের প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে বিরোধ চলছিল। একই সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়েও রিপনের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই, গুলিশাখালী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি রিফাত কাজীর বিরোধ ছিল। এসব বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে রিপনকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন নিহতের ছোট ভাই সাব্বির কাজী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের চাচাতো ভাই রাজিব কাজি জানান, “ মঙ্গলবার রাতে তারা মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে গগণখা এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন তাদের গতিরোধ করে। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিপনের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার মুখে তিনি পাশের খালে লাফিয়ে পড়ে প্রাণে রক্ষা পেলেও রিপনকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে পটুয়াখালী মেডিকলে কলেজ ও হাসপাতালে নেয়া হলে কর্ত কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট ভাই সাব্বির কাজী অভিযোগ করেন, তার বাবা মিজানুর কাজী, চাচাতো ভাই রিফাত কাজী, সজিব কাজী এবং তাদের সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নিহতের মা আমেনা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, আমি তাদের কঠোর বিচার চাই।

ঘটনার পর স্থানীয়রা জড়িত সন্দেহে মোস্তফা কাজী ও ফিরোজ কাজী নামে দুইজনকে আটক করে আমতলী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। পরে তাদের পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আমতলী থানার ওসি মো. ইয়াকুব হোসাইন বলেন, ঘটনাস্থল পটুয়াখালী সদর থানার আওতাধীন হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা সেখান থেকেই নেওয়া হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যা প্রাথমিকভাবে নিহতের বাবা মিজানুর কাজীর ব্যবহৃত বলে জানা গেছে।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন