ঋণখেলাপি হওয়ায় চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আসলাম চৌধুরীর শপথ নিতে পারবেন না বলে গতকাল মঙ্গলবার রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তবে আদালতের এই রায়ের পর ফেসবুকে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বড় একটি অংশের আলোচনায় উঠে আসছে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাবাস, সাংগঠনিক ভূমিকা এবং দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে থাকার নানা স্মৃতিচারণ।
রায়ের পর থেকেই চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপি, সীতাকুণ্ড উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী তাদের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে আসলাম চৌধুরীকে নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক পোস্ট প্রকাশ করছেন। অনেকেই তাকে ‘‘দুঃসময়ের সহযোদ্ধা’’, ‘‘ত্যাগী সংগঠক’’, ‘‘কর্মীবান্ধব নেতা’’ এবং ‘‘তৃণমূলের অভিভাবক’’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টগুলো পর্যালোচনায় দেখা যায়, অধিকাংশ লেখাতেই আদালতের রায়ের আইনি দিকের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়। বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক দমন-পীড়নের সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করা, কারাবন্দিদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া, আর্থিক সংকটে থাকা পরিবারকে নীরবে সহযোগিতা করা এবং আন্দোলনের কঠিন সময়ে কর্মীদের মনোবল ধরে রাখতে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষায় তিনি ভূমিকা রেখেছেন।
অনেক পোস্টে আরও দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিন মামলা ও নির্যাতনের মুখে থাকা নেতাকর্মীদের পাশে ব্যক্তিগতভাবে দাঁড়িয়েছেন তিনি। স্মৃতিচারণে কেউ কেউ লিখেছেন, রাজনৈতিক সংকটের সময়ে তাঁর সহযোগিতা অনেক পরিবারকে কঠিন সময় অতিক্রমে সাহস জুগিয়েছে।
ফেসবুকের আলোচনায় তার বিরুদ্ধে আলোচিত ঋণখেলাপির বিষয়টিও স্থান পেয়েছে। কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের পোস্টে দাবি করেছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, মামলা পরিচালনা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সহায়তা করতে গিয়ে তিনি আর্থিক চাপে পড়েন। তবে এসব বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ব্যক্তিগত মতামত ও দাবি। এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকিং নথি বা অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আদালতের রায়ের পর একজন বিরোধী নেতাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের ব্যাপক স্মৃতিচারণ তৃণমূলের আবেগ ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার একটি দিক তুলে ধরে।
গতকালের রায়ের পর সীতাকুণ্ডসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। রাজনৈতিক অঙ্গনের পর্যবেক্ষকদের মতে, আইনি প্রক্রিয়ার পাশাপাশি আসলাম চৌধুরীর দীর্ঘ কারাবাস, রাজনৈতিক ত্যাগ এবং তৃণমূলের সঙ্গে তার সম্পর্কই এখন জনআলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

