ফেনীর সোনাগাজীতে মৎস্য খামারি হাজী সিরাজুল হকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বিএনপি ও যুবদলের ৯ নেতাকর্মীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার ফেনীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ছালামত উল্যাহ শুনানি শেষে তাদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো আসামিরা হলেন— সোনাগাজীর আমিরাবাদ ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাজল হক সোহেল, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন, এবং যুবদলকর্মী মোশারফ হোসেন, মো. আসিফ, আরিফ শুভ, মো. নীরব, বেলাল হোসেন, দাউদুল ইসলাম ও মো. সৌরভ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের ৪ মার্চ হাজী সিরাজুল হকের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম সোনাগাজী মডেল থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ১০–১৫ জন অজ্ঞাত আসামি করে মামলা করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ৩ মার্চ দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সোনাগাজী উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে হাজী সিরাজুল হকের নতুন বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা বাড়িতে ভাঙচুর চালায়, রান্নাঘরে অগ্নিসংযোগ করে এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে।
এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি খামার থেকে মালামাল আনার সময় প্রতিপক্ষের ১৫–২০ জনের একটি দল হাজী সিরাজুল হকের ছেলে ফরহাদুল ইসলাম বিপ্লব ও রাকিবুল ইসলাম হৃদয়কে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়। ওই ঘটনায় একটি মোটরসাইকেলসহ খামারের বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়, যার ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়।
হাজী সিরাজুল হকের ছেলে ফরহাদুল ইসলাম বিপ্লব বলেন, ঘটনার বিচার চেয়ে স্থানীয়ভাবে জানানো হলে প্রতিপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে ৩ মার্চ রাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় রান্নাঘরে আগুন দেওয়া হয়, ঘরের দরজা-জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয়।
পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ সূত্র জানায়, আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে অস্থায়ী জামিন নিয়ে নির্ধারিত তারিখে নিম্ন আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
এ বিষয়ে ফেনী আদালত পুলিশের পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম জানান, আদালত শুনানি শেষে আসামিদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
ঘটনার পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার সংবাদ সম্মেলনে নিরাপত্তা দাবি করে। অন্যদিকে আসামিপক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে, তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

