নরসিংদীর রায়পুরার নিলক্ষায় রক্তক্ষয়ী টেঁটাযুদ্ধের ঘটনায় এ পর্যন্ত নিহত পাঁচ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
গত রবিবার সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার খাককান্দা মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় বুলবুলের লাশ উদ্ধার করে খাককান্দা নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। একই দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত মোস্তফা মিয়া।
এর আগে নিহত তিনজন হলেন, নিলক্ষা ইউনিয়নের দড়িগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়ার অনিক মিয়া (২২), বীরগাঁও গ্রামের পূর্বপাড়ার কাউসার আহমেদ (৩৭) ও কান্দাপাড়ার মালয়েশিয়াপ্রবাসী লতিফ মোল্লা (৩৫)।
গত মঙ্গলবার ভোরে রায়পুরার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর ও দড়িগাঁও গ্রামের নাজিম উদ্দিন ওরফে মিষ্টার ও আলাল মুন্সি ওরফে জবা মেম্বার গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। টেঁটা, দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে টানা কয়েক ঘণ্টা দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় কয়েকটি বাড়িঘরে।
ঘটনার দিন অনিক মিয়া নামে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। পরদিন বুধবার (১৭ জুন) বেলা ৩টার দিকে নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নে জিৎরামপুর এলাকায় মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউসার আহমেদের লাশ ভেসে ওঠে। এর পরদিন বৃহস্পতিবার নিলক্ষার হরিপুরে মেঘনা নদীতে ভেসে উঠে লতিফ মোল্লার লাশ।
এদিকে সংঘর্ষের সময় গুলিবিদ্ধ মোস্তফা মিয়া দীর্ঘ পাঁচ দিন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (২১ জুন) সকালে মৃত্যুর কুলে ঢলে পড়ে।
একই দিন সন্ধ্যায় নারায়নগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানাধিন খাককান্দা এলাকায় মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় একটি লাশ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ ফাঁড়ি। খবর পেয়ে নিখোঁজ বুলবুলের পরিবারের লোকজন খাককান্দা নৌ-পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে নিহতের লাশ সনাক্ত করে। এ নিয়ে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচ জনে|
রায়পুরা থানার ওসি মজিবুর রহমান বলেন, খাককান্দা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা লাশটি নিখোঁজ বুলবুলের বলে তার পরিবারের লোকজন সনাক্ত করেছে। নিলক্ষায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত রায়পুরা থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে গত বুধবার রাতে নিহত অনিকের মা নাসিমা খাতুন বাদী হয়ে ৩০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অপর দিকে নিহত কাউসারের স্ত্রী মুন্নি আক্তার রোববার বাদী হয়ে ১৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ১৬/১৭ জনকে আসামি করে আরেকটি হত্যা মামলা করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

