বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও পর্যটন সম্ভাবনাকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার এক অনন্য আয়োজন হলো ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’। তারেক রহমানের সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে কমিউনিটি ট্যুরিজম, এথনিক ট্যুরিজম ও ওয়াটার ট্যুরিজম বিকাশের যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরই একটি অংশ।
শুক্রবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তিন দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পর্যটনশিল্পের বিকাশ, বহুজাতিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য তুলে ধরার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় উপজেলার ফুলছড়া চা-বাগান মাঠে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
মন্ত্রী বলেন, ‘পাহাড়, চা-বাগান এবং ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতির মেলবন্ধনে এই উৎসব জীবন্ত রূপ পেয়েছে। এ ধরনের আয়োজন একদিকে যেমন পর্যটনশিল্পের বিকাশে ভূমিকা রাখছে, অন্যদিকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরছে।’
তিনি আরও বলেন, মৌলভীবাজার জেলার পর্যটনশিল্পের বিকাশ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড প্রতি বছর আরও বৃহৎ পরিসরে এ উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। আগামী শীতের উৎসব আরও বর্ণাঢ্য হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগীদের উত্থাপিত দাবির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘শমসেরনগর বিমানবন্দর চালুসহ পর্যটন এলাকার বিভিন্ন উন্নয়ন দাবির বিষয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
পর্যটন খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড ‘ন্যাশনাল ট্যুরিজম হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি’ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের পর্যটন সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে বিভিন্ন বিপণন ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুর রউফ।
এছাড়া বক্তব্য দেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মশিউর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি মাইনুল হাসান, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি জিল্লুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল এবং পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী এ উৎসবে অংশ নিয়েছে। তারা নিজস্ব সংস্কৃতি, জীবনধারা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প, খাদ্য এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে তাদের সমৃদ্ধ ঐতিহ্য তুলে ধরছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, বর্ষাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ উৎসব স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে। উৎসবে নৃ-গোষ্ঠীগুলোর বৈচিত্র্যময় জীবনাচার, ঐতিহ্যবাহী পণ্য, লোকজ সংস্কৃতি ও শৈল্পিক পরিবেশনা স্থান পেয়েছে, যা দেশের পর্যটনশিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করবে।
উল্লেখ্য, আগামী রোববার পর্যন্ত চলমান এ উৎসবে প্রতিদিন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রদর্শনী ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

