সুরমা নদীতে দেখা দিয়েছে তীব্র ভাঙন। শান্তিগঞ্জ উপজেলার তিন গ্রামের শত শত মানুষ ভাঙনের কবলে পড়ে দিশেহারা হয়ে গেছেন। অনেক আগেই হারিয়ে গেছে মসজিদ ও বিদ্যালয়। অসংখ্য পরিবারের বাড়িঘর বিলীন হয়ে গেছে।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিমুলবাঁক ইউনিয়নের ধনপুর, সরদারপুর, আমড়িয়া গ্রামের পাশে বয়ে গেছে সুরমা নদী। নদীতে পানি বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে সুরমার ভাঙন। ভাঙন ধীরে ধীরে গিলে খাচ্ছে তিন গ্রামের শত শত পরিবারকে। বাড়িঘরের কাছাকাছি এসে হানা দিচ্ছে ভাঙন। গত কয়েকদিনের ব্যবধানে গ্রামীণ সড়ক ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভাঙন কবলিত এলাকার লোকজন নদী পাড়ে দাঁড়িয়ে চোখের জল ফেলছেন।
সরদার পুর গ্রামের সালেহ আহমেদ, সাইফুল, ফয়জুননুর, মহিম নদীর দিকে তাকিয়ে বলেন, কি আর করব। আমাদের গ্রাম, বাড়িঘর সব নদী গিলে খাচ্ছে। নদী ভাঙনের চিন্তায় ঘুমাতে পারি না। নদীটি অনেক দূরে ছিল। ভাঙতে ভাঙতে বাড়ির সামনে এসে গেছে। যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে। জায়গা জমি নেই, হাতে টাকা পয়সা নেই। কোথায় আশ্রয় নেবো এই চিন্তায় আছি।
ইউপি সদস্য আব্দুল মছাব্বির বলেন, ২০ বছর ধরে সুরমা নদীর ভাঙন ব্যাপক আকার ধারন করেছে। শত শত পরিবার আতঙ্কে রয়েছেন। সরকার ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে ৩ গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এমদাদুল হক জানান, এ এলাকার যেসব স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে সেখানে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরবর্তীতে নদী ভাঙন ঠেকাতে স্থায়ী প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কয়ছর এম আহমেদ বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকায় নদী ভাঙনের খবর জেনেছি। শিগগির ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করব। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য বলেছি। আশা করি ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

