বিশ্ববাজারে এক বছর ধরে সোনার দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্য নীতির কারণে বিনিয়োগকারীরা সোনার দিকে ঝুঁকছেন। বলা যায়, সোনার প্রতি আকর্ষণ নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে।
বিশ্ববাজারে সোনা, রুপা ও প্লাটিনামের মতো মূল্যবান ধাতুর ওজন সাধারণত ট্রয় আউন্সে পরিমাপ করা হয়। এক ট্রয় আউন্স সমান ৩১ দশমিক ১০৩৫ গ্রাম। ধরা যাক, প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ডলার। সেই হিসাবে ১ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১৬০ ডলার। এই হিসাবে এক কেজি ওজনের সোনার বারের দাম পড়ে ১ লাখ ৬০ হাজার ডলার।
ট্রয় আউন্সের হিসাব আর সাধারণ আউন্সের হিসাব এক নয়। সাধারণ আউন্সের ওজন ২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম। খাদ্যসহ দৈনন্দিন পণ্যের ওজন মাপতে এই হিসাব ব্যবহৃত হয়।
দেশের বাজারে যখন সোনার দাম বাড়ে বা কমে, তখন সেই সংবাদে অবধারিতভাবে যে বিষয়টি থাকে, তা হলো কোন ক্যারেটের সোনার দাম কত। অর্থাৎ ২২ ক্যারেট ২১ ক্যারেট বা ১৮ ক্যারেটের সোনার দাম পৃথকভাবে উল্লেখ করা থাকে।
এই ক্যারেট হলো সোনার বিশুদ্ধতার মানদণ্ড। খাঁটি সোনা ২৪ ক্যারেট। ২২, ২১, ১৮ ক্যারেট বা সনাতনী পদ্ধতির সোনার সঙ্গে রুপা, তামা বা দস্তার মতো কম দামি ধাতুর মিশ্রণ থাকে।
এ ছাড়া ১৪ ক্যারেট (৫৮ দশমিক ৩ শতাংশ বিশুদ্ধ) ও ১০ ক্যারেট (৪১ দশমিক ৭ শতাংশ বিশুদ্ধ) সোনাও বিভিন্ন দেশে প্রচলিত। গয়নার দাম সাধারণত নির্ভর করে সেদিনের সোনার স্পট মূল্য, তৈরির খরচ ও করের ওপর।
গ্রাহক যদি পণ্যের সঠিক ওজন ও ক্যারেট সম্পর্কে ধারণা রাখেন, তাহলে মূল দামের সঙ্গে কারিগরি খরচ যোগ করে হিসাব মিলিয়ে নিতে পারেন। সাধারণত স্পট মার্কেটে সোনার দাম নিয়ে দর–কষাকষি করা যায় না, তবে তৈরির খরচ নিয়ে অনেক সময় দরদাম সম্ভব।
দেশে দেশে সোনার দাম কীভাবে নির্ধারিত হয়
আন্তর্জাতিক বাজারে লন্ডন ও নিউইয়র্কের মতো এক্সচেঞ্জে প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার স্পট মূল্য নির্ধারিত হয় মার্কিন ডলারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের স্থানীয় বাজারে এই দাম দেশীয় মুদ্রায় রূপান্তর করা হয়। তার সঙ্গে যুক্ত হয় পরিবহন ব্যয় ও চাহিদা অনুযায়ী প্রিমিয়াম।
কোন দেশের বাজারে সোনার দাম কত পড়বে, তার সঙ্গে সেই দেশের শুল্কনীতির যোগ আছে। যেমন ভারতের বাজারে সোনা ৩ শতাংশ জিএসটি আরোপ করা হয়, যদিও যুক্তরাজ্য ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিনিয়োগের জন্য সোনা কিনতে কর দিতে হয় না।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্থানীয় বৈশিষ্ট্য ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব সাপেক্ষে স্বর্ণমুদ্রা ও বার তৈরি হয়। যেমন যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ইগল, চীনের গোল্ড পান্ডা ও দক্ষিণ আফ্রিকার করুগারর্যান্ড উল্লেখযোগ্য।
কোন দেশের কাছে বেশি সোনার মজুত
গত কয়েক বছরে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনার মজুত বৃদ্ধি করেছে। সোনার দাম যে এতটা বেড়েছে, তার পেছনে এই কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোরও ভূমিকা আছে। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সোনা মজুত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে, ৮ হাজার ১৩৩ টন। দ্বিতীয় স্থানে জার্মানি, তাদের কাছে আছে ৩ হাজার ৩৫০ টন। তৃতীয় স্থানে ইতালি—তাদের হাতে আছে ২ হাজার ৪৫১ টন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

