দেশের পর্যটন খাতকে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ভিত্তির ওপর গড়ে তুলতে ইকোট্যুরিজম উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে পর্যটনসংশ্লিষ্ট মানবসম্পদ উন্নয়ন, আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ এবং সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে একাধিক উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট বক্তৃতায় এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাতের পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আন্তর্জাতিক মানের একটি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। একই সঙ্গে রন্ধনশিল্পসহ (কুলিনারি আর্ট) পর্যটনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে ইন্টারন্যাশনাল হসপিটালিটি বেঞ্চমার্ক নির্ধারণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, পর্যটন খাতের প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের সার্টিফিকেশন ব্যবস্থাও চালু করা হবে। এর ফলে দেশের পর্যটন খাতে দক্ষ জনশক্তি তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়বে।
এ ছাড়া সরকার পর্যটন খাতের সামগ্রিক সম্ভাবনা, বৈচিত্র্য ও আধুনিক সৃজনশীল ধারণাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা দ্রুত চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতি ও পর্যটন খাতের বিকাশে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাথমিকভাবে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) খাত থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকার তহবিল সংগ্রহ করা হবে।
সরকারের আশা, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের পাশাপাশি ইকোট্যুরিজমকে কেন্দ্র করে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং পর্যটন খাত জাতীয় অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

