১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার

১০ হাজার টন মসুর ডাল কিনবে সরকার

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) মাধ্যমে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর কাছে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রির জন্য স্থানীয় বাজার থেকে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ খাতে মোট ব্যয় হবে প্রায় ৮২ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।

বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবের ভিত্তিতে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে নির্বাচিত রাজশাহীর নাবিল নবা ফুডস লিমিটেড প্রতি কেজি ৮২ টাকা ৫৪ পয়সা দরে ডাল সরবরাহ করবে।

বিজ্ঞাপন

সরকারি সূত্র জানায়, টিসিবির কার্ডধারী নিম্ন আয়ের পরিবারের মধ্যে নিয়মিত ভর্তুকি মূল্যে পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এই ক্রয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংগৃহীত ডাল ৫০ কেজি ওজনের বস্তায় সরবরাহ করা হবে, যাতে সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম সহজ হয়।

টিসিবির বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ২ লাখ ৩০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ইতোমধ্যে এক লাখ ৩৯ হাজার ২৭২ মেট্রিক টন সংগ্রহ করা হয়েছে। সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন ডালের প্রয়োজন হয়।

দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির তথ্য বলছে, প্রতি কেজি মসুর ডালের দাপ্তরিক প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ৮৭ টাকা ৩৭ পয়সা। নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবিত দর প্রাক্কলিত মূল্যের তুলনায় ৪ টাকা ৮৩ পয়সা কম। একইভাবে বাজার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় বাজারে সমজাতীয় ডালের গড় পাইকারি মূল্য ছিল প্রতি কেজি ৮৪ টাকা, যা থেকে বর্তমান ক্রয়মূল্য ১ টাকা ৪৬ পয়সা কম।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, স্থানীয় উৎস থেকে ডাল সংগ্রহ অর্থনৈতিকভাবেও লাভজনক। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা ডাল টিসিবির গুদামে পৌঁছাতে প্রতি কেজিতে প্রায় ৯৪ টাকা ৭৫ পয়সা এবং ভারতীয় উৎসের ক্ষেত্রে ১২৪ টাকা ২৪ পয়সা ব্যয় হতে পারে। সেই তুলনায় স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ব্যয় সাশ্রয় হবে।

বর্তমানে টিসিবির গুদামে ১৪ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন মসুর ডাল মজুত রয়েছে। এছাড়া চুক্তিবদ্ধ ও পাইপলাইনে রয়েছে আরও ৩৬ হাজার ৬০৫ মেট্রিক টন। আগামী জুলাই পর্যন্ত বিক্রয় কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে অতিরিক্ত ডাল সংগ্রহ প্রয়োজন হওয়ায় নতুন এ ক্রয় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এমবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন