‘সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশগ্রহণে নিশ্চিত হবে ভবিষ্যৎ জীবন’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় দুই দিনব্যাপী সর্বজনীন পেনশন মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে ২৪ জুন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধন শেষে জেলা শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শারমিন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টিযুক্ত সর্বজনীন পেনশন স্কিম নাগরিকদের অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একটি টেকসই ব্যবস্থা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে পেনশন তহবিল নিরাপদভাবে সংরক্ষিত থাকে এবং অংশগ্রহণকারীরা নির্ধারিত বয়সে পেনশন সুবিধা লাভ করেন। তিনি ২০৩০ সালের মধ্যে ৪ কোটি মানুষকে এ ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে দেশের প্রতিটি পরিবার থেকে অন্তত একজনকে সর্বজনীন পেনশন স্কিমে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, সিভিল সার্জন ডা. হাদি জিয়া উদ্দিন আহমেদ এবং জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ কামরুল হাসান।
মেলায় বিভিন্ন ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের অংশগ্রহণে তথ্য ও নিবন্ধন সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়। এ ছাড়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় এবং আগত দর্শনার্থীদের সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করা হয়।
পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ, উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সদস্য, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
মেলার দ্বিতীয় দিনে (২৫ জুন) জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সদস্য (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ কামরুল হাসান। সমাবেশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
এ ছাড়া সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও নিবন্ধন কার্যক্রম সম্প্রসারণের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলার শিবপুর উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের আলমডাঙ্গা গ্রামে সর্বজনীন পেনশন স্কিম বিষয়ক একটি উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সর্বজনীন পেনশন স্কিম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিবন্ধন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং মাঠপর্যায়ে কার্যকর বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের সকল বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় পেনশন মেলা, কর্মশালা, সুধী সমাবেশ, র্যালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং উঠান বৈঠকের আয়োজন করা হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


