গুলিবিদ্ধ মারুফের মৃত্যুর বর্ণনা দিলেন সাকিব

স্টাফ রিপোর্টার

গুলিবিদ্ধ মারুফের মৃত্যুর বর্ণনা দিলেন সাকিব

জুলাই বিপ্লবে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে প্রথম সাক্ষী হিসেবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ জবানবন্দি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. সাকিব আহম্মেদ তুলন।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ১৮ জুলাই বাড্ডা পোস্ট অফিস রোড ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন। সেদিন পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর টিয়ারশেল ও ছররা গুলি নিক্ষেপ করে। পুলিশের বাধার মুখে তিনি বাসায় ফিরে যান। পরে গণমাধ্যমে জানতে পারেন, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে একজন শিক্ষার্থী পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন।

সাকিব জানান, ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর তিনি, তার বন্ধু মারুফ, মারুফের মামা ফয়সাল ও রাজিব ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সামনে মিছিলে অংশ নেন। সেখানে অবস্থানকালে তিনি দেখেন, রামপুরা ব্রিজের দিকে যাওয়া লোকজনকে পুলিশ ও বিজিবি লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রামপুরা ব্রিজের সামনে ব্যারিকেড ছিল এবং সেখানে তিনি পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, বিকেলে রামপুরা ব্রিজের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শোনেন এবং মারুফকে রাস্তার পাশের ফুটপাতে পড়ে থাকতে দেখেন। প্রথমে ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে গেছে মনে হলেও পরে দেখতে পান, তার তলপেটের ডান পাশে গুলি লেগেছে। মারুফ তাকে বলেন, ‘মামা, আমার গুলি লেগেছে, আমাকে বাঁচাও।’ এরপর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

সাকিব জানান, অনেক কষ্টে একটি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে মারুফকে এএনজেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল এবং তিনি নিজ হাতে ক্ষতস্থান চেপে ধরে রক্ত বন্ধের চেষ্টা করেন। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকেরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পথে রামপুরা ব্রিজের কাছে পুলিশ ও বিজিবি অ্যাম্বুলেন্সের গতি রোধ করে। এতে প্রায় আধা ঘণ্টা সময় নষ্ট হয় এবং মারুফের শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি ঘটে। পরে অ্যাম্বুলেন্স ছেড়ে দেওয়া হলে শান্তিনগর ব্রিজের কাছে পৌঁছানোর আগেই মারুফ মারা যান। এর পরও তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সাকিব আরো বলেন, পরে ইসিজি পরীক্ষার মাধ্যমেও মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ মর্গে পাঠায়। পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘ওপরের অর্ডার আছে, আমরা একটা লাশও হাসপাতাল থেকে বের হতে দেব না।’

তিনি জানান, সেদিন রাতে হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে শিল্পকলা একাডেমি ও রমনা থানার সামনে পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরা তাদের রিকশা থামান। সেখানে একজন সদস্য তাদের গুলি করার প্রস্তাব দিলেও আরেকজন ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন। পরে তারা খিলগাঁও হয়ে বাসায় ফিরে যান।

জবানবন্দিতে সাকিব আরো বলেন, ২০ জুলাই সকালে ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এলাকায় গেলে তিনি আবারও গুলির শব্দ শুনতে পান। স্থানীয়দের কাছ থেকে উত্তর বাড্ডা এএনজেড হাসপাতালের সামনে, বাড্ডা পোস্ট অফিস রোডে এবং মেরুল বাড্ডা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর জানতে পারেন। পরে শারীরিকভাবে অসুস্থ বোধ করায় তিনি বাসায় ফিরে যান।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন