জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন জাকসু মনোনীত সিনেট সদস্য ও জাকসুর এজিএস (পুরুষ) ফেরদৌস আল হাসান। তিনি দাবি করেন, চলতি বাজেটে মেডিকেল খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও মাথাপিছু হিসাব করলে বছরে মাত্র ৪৩ টাকা ৭৫ পয়সা পড়ে, যা দিয়ে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
শনিবার (২৭ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের জান্নাতুল ফেরদৌস সিনেট হলে অনুষ্ঠিত সিনেটের ৪৩তম বার্ষিক সভায় বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
ফেরদৌস আল হাসান বলেন, চলতি বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল খাতে পূর্বের ৬০ লাখ টাকার বরাদ্দ বাড়িয়ে ৭০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এ জন্য তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানালেও বরাদ্দকে বাস্তব প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল বলে মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, “ধরে নিচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১৬ হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন। ৭০ লাখ টাকা যদি ১৬ হাজার মানুষের মধ্যে ভাগ করা হয়, তাহলে একজনের জন্য বছরে বরাদ্দ দাঁড়ায় মাত্র ৪৩ টাকা ৭৫ পয়সা। মাসিক হিসেবে তা মাত্র ৩ টাকা ৬৪ পয়সা। আমি জানি না, পৃথিবীর কোনো দেশে এত অল্প অর্থ দিয়ে একজন মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব।”
স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের জন্য মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নের পাশাপাশি বরাদ্দ অন্তত ১০ গুণ বাড়ানোর দাবি জানান তিনি। তার ভাষায়, “শিক্ষার্থীদের কষ্ট যদি সত্যিই উপলব্ধি করে থাকেন, তাহলে শুধু মেডিকেল সেন্টারের অবকাঠামো নয়, বরাদ্দও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করতে হবে।”
বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের পরিকল্পনা থাকলেও শিক্ষার্থীদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।
সিনেটের বাজেট অধিবেশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাতে বরাদ্দ, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিভিন্ন সিনেট সদস্য নিজ নিজ মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

