বাবাকে নিয়ে ববিতার স্মৃতিচারণ

বিনোদন রিপোর্টার

বাবাকে নিয়ে ববিতার স্মৃতিচারণ

মা এবং বাবা দুজনেই একে অন্যের পরিপূরক। মূলত মায়ের পাশাপাশি বাবাও যে সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল, এটি বোঝানোর জন্যই বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিক থেকে বাবা দিবস পালন করা শুরু হয়। প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালন করা হয়। বাবার প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান জানাতে এবার বাবাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করলেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা।

আমার দেশকে ববিতা জানান, শুধু বাবা দিবস এলেই যে আব্বাকে মনে পড়ে—আমার কাছে কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। আমার জীবনজুড়ে জড়িয়ে আছেন আমার আব্বা। সবাই বলেন, আমি নাকি আমার আব্বার আদর্শে বেড়ে উঠেছি। কিন্তু আদৌ কি আমি আব্বার আদর্শে বেড়ে উঠতে পেরেছি, এটা আমার নিজের কাছে নিজেরই প্রশ্ন। আমার বিয়ের মাত্র চার মাস পরেই আমার আব্বা এ এস এম নিজাম উদ্দিন আতাউব ইন্তেকাল করেন। যে কারণে মানসিকভাবে সে সময় অনেক ভেঙে পড়েছিলাম। বাবাকে ঘিরে প্রত্যেক সন্তানেরই অনেক স্মৃতি থাকে। আব্বা সব সময় আমাদের ছয় ভাইবোনকে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বাসায় ফেরার কথা বলতেন। আমার জীবনের সাফল্যের মূলমন্ত্র কিন্তু আব্বার কাছ থেকেই পাওয়া।

বিজ্ঞাপন

এই যে আমি এত পরিপাটি থাকি, গুছিয়ে থাকার চেষ্টা করি, এটা আব্বার কাছ থেকেই পাওয়া। আব্বা যখন অফিস থেকে আসতেন, তখন আমরা সবাই আব্বাকে পান বানিয়ে খাওয়াতাম। আব্বা তখন বেশ আয়েশ করে পান খেতেন। আব্বার পা টিপে দিতে দিতে তখন সব আবদার করতাম। আব্বা আমাদের সেই আবদার রাখতেন। আবার আব্বা অনেক সিনেমা দেখতেন। সিনেমা দেখে দেখে আমাদের মজার মজার গল্প বলতেন এবং সেই সব গল্পে আব্বা আমাদের অভিনয় করতে বলতেন। সেখান থেকেই কিন্তু অভিনয়ে আমার অনুপ্রেরণা আসা। পরবর্তী সময়ে যখন আমি সিনেমার নায়িকা হিসেবে কাজ শুরু করি, তখনো আব্বা আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দিতেন।

সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ সিনেমায় অভিনয়ের আগে আব্বাই সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে চিঠি আদান-প্রদান করতেন ইংরেজিতে। শুটিংয়ের সময় সত্যজিৎ রায়ের সঙ্গে আব্বার চমৎকার একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। আমার ইংরেজি শেখার খুব শখ ছিল বিধায় আব্বা আমাকে ছোটবেলায় একটি ডিকশনারি কিনে দিয়েছিলেন।

আমি তখন প্রথম শ্রেণিতে পড়ি। বাগেরহাটে থাকি সবাই। সবাই আমাকে রেখে মামার বাড়ি যাবে বেড়াতে। আমি বুদ্ধি করলাম কীভাবে আব্বাকে রাজি করানো যায়। আব্বা সন্ধ্যা নাগাদ বাসায় ফেরার সময় আমিই হারিকেন নিয়ে আব্বাকে এগিয়ে আনতে গেলাম। আমাকে দেখে আব্বা ভীষণ খুশি, কারণ তখন বিদ্যুৎ ছিল না। অন্ধকারে আব্বাকে এগিয়ে আনতে গিয়েছিলাম। আব্বা তখন খুশি হয়ে বলেন, কী চাও মা? আমি বললাম, আমাকেও সঙ্গে নিয়ে মামার বাড়িতে বেড়াতে যেতে হবে। আব্বা রাজি হলেন। আব্বা আমার জীবনের আদর্শ। তাই আমার ইচ্ছা আমার মৃত্যুর পর যেন বনানী কবরস্থানে আব্বার কবরেই আমাকে দাফন করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন