আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রাকসু ‍নির্বাচন

একটি কেন্দ্রে ভোট কারচুপির অভিযোগ ছাত্রদলের, নাকচ শিক্ষার্থীদের

স্টাফ রিপোর্টার

একটি কেন্দ্রে ভোট কারচুপির অভিযোগ ছাত্রদলের, নাকচ শিক্ষার্থীদের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন ছাত্রদল সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্মের ভিপি প্রার্থী শেখ নূর-উদ্দীন আবির।

তিনি বলেন, "দুপুর দেড়টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত এক ঘণ্টা ভোট বন্ধ ছিল। প্রিজাইডিং অফিসার বন্ধের কারণ জানায়নি। কেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রিজাইডিং অফিসারের স্বাক্ষরিত ২০০ শতাধিক ব্যালট পেপার পাওয়া গেছে। সেগুলো বাক্সে ভরা হয়েছে বলে আমরা মনেকরি।"

বিজ্ঞাপন

তবে ছাত্রদল প্রার্থীর এমন অভিযোগ নাকচ করেছেন ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা শিক্ষার্থীরা।

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) বেলা তিনটার দিকে জগদীশ চন্দ্র একাডেমিক ভবনে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।

ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবির বলেন, "শিবিরের ছেলেরা বের হওয়ার গেট দিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করেছে। অথচ আমাদেরকে মূল গেট দিয়েই কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আমরা অভিযোগ জানিয়েছি, সুষ্ঠু তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।"

এ সময় ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে বহিরাগত প্রবেশ করানোর অভিযোগ তোলেন তিনি।

তবে ওই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা শিক্ষার্থীরা বলছেন, ভোটারদের দীর্ঘ লাইন হওয়ায় নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের বেগ পেতে হচ্ছে। এখানে ভোট কারচুপির সুযোগই নেই।

এই কেন্দ্রের ভোটার ট্রিপলি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী নকিবুল ইসলাম বলেন, "চার স্তর পেরিয়ে ভোট দিতে হচ্ছে ভোটারদের। কেন্দ্রে প্রবেশ করার আগেই প্রথমধাপে চেকিং হচ্ছে। কেন্দ্রে ঢুকে ভোটার নাম্বার যাচাই করছে, আইডির চেহারা মেলানো হচ্ছে এরপর ছবিযুক্ত ভোটার তালিকায় স্বাক্ষর করে তারপর ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে। ফলে এখানে ভোট কারচুপির কোনো সুযোগ নেই।"

এই শিক্ষার্থী বলেন, "যেহেতু ভোটারদের দীর্ঘ লাইন, তাই আগে থেকে ব্যালোটে স্বাক্ষর রাখতেই পারে। সেগুলো শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর ছাড়া বাক্সে ভরানোর সিস্টেমই নেই, কারচুপি হবে কিভাবে?"

ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বলেন, "ভোটারদের চাপ থাকায় নির্দেশনা ছিল অন্তত ১০ ব্যালোটে পেপার স্বাক্ষর করে রাখার। কিন্তু একজন শিক্ষক বুঝতে না পেরে বেশি ব্যালোটে স্বাক্ষর করে ফেলেন। পরবর্তী এটি জানার পর, এসব ব্যালট যদি যাতে কোনো ধরনের অনিয়ম না হয়, সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "এ ঘটনায় ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেলের পোলিং একটি মৌখিক অভিযোগ করেছেন। তার সামনেই বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।"

এ বিষয়ে ছাত্রদলের পোলিং এজেন্ট মহিউদ্দিন আহমেদ সীমান্ত বলেন, "এখানে ভোট কখনো বন্ধ ছিলনা, তবে ধীর গতিতে হয়েছে। এ কারণে বাইরে থেকে কেউ কেউ মনে করেন ভোট বন্ধ ছিল।"

ভোট কারচুপির বিষয়ে তিনি বলেন, "শিক্ষকের স্বাক্ষর করে রাখা ব্যালোট পেপারের বিষয়ে আমি প্রিজাইডিং মহাদয়কে অভিযোগ করেছি। স্বাক্ষর করে রাখা ব্যালোট পেপারগুলো ভোটারদের দুই বা ততোধিক দেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু কাউকে দেওয়া হয়েছে এমন কোনো তথ্য প্রমাণ আমার কাছে নেই।"

ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মুস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, "এমন অভিযোগ যদি ছাত্রদল করে থাকে সেটি নির্বাচন কমিশনের দায়। সেই জবাব তাদেরকেই দিতে হবে। সঙ্গে এটি আমাদেরও অভিযোগ। এত সুন্দর আয়োজন করার পরও কেন এমন অভিযোগ উঠল। নির্বাচন কমিশনের অবশ্যই তদন্ত করা উচিত।"

তবে বহিরাগত আনার বিষয়ে অস্বীকার করে তিনি বলেন, "আমরা একটা অভিযোগ করেছি তাই তারাও গতানুগতিকভাবে একই অভিযোগ আমাদের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। এটা তাদের পুরনো বৈশিষ্ট্য।"

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...