আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু

হাফেজা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না আয়েশার

নজমুল হুদা শাহীন, ঢাকা উত্তর

হাফেজা হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হলো না আয়েশার

পবিত্র কোরআন শরিফের ১৮ পারা মুখস্থ করেছিল ১৩ বছর বয়সি আয়েশা সিদ্দিকা। খুব দ্রুত বাকি অংশ মুখস্থ করে পূর্ণ হাফেজা হওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে গেল। সম্প্রতি পদ্মায় বাসডুবিতে মৃত্যু হয় এই কিশোরীর।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকার সাভারের জালেশ্বর থেকে পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদ্‌যাপনের জন্য গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার খোকসায় গিয়েছিল আয়েশা। গত বুধবার সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে করে তারা ফিরছিল। পথেই তাদের বহনকারী বাস দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের পন্টুন থেকে পদ্মায় পড়ে ডুবে যায়। এ সময় বাসে ৪০ জন যাত্রী ছিল। এর মধ্যে কয়েকজন সাঁতরে ওপরে উঠতে পারলেও অনেকেই বাসের ভেতরে আটকা পড়ে। এ পর্যন্ত আয়েশাসহ ২৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার সোমসপুর গ্রামে গত বৃহস্পতিবার আয়েশাকে চাচার কবরের পাশে দাফন করা হয়।

আয়েশার পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী কাউন্টার থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে করে বুধবার পরিবারের সঙ্গে ঢাকায় যাচ্ছিল সে। বাসে সে তার মা লিটা খাতুনের সঙ্গে বসে ছিল। বাবা গিয়াস উদ্দিন ও ভাই আবুল কাশেম সাফিন ফেরিঘাটে বাস থামার পর নিচে নামে। এরপর বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়।

চোখের সামনে ঘটে যাওয়া সেই ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন বাবা গিয়াস উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আমাদের চোখের সামনে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায় বাস। আমার স্ত্রী অসুস্থ ছিল। কোনোমতে সে ডুবে যাওয়া বাস থেকে প্রাণে বেঁচে ফেরে। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন। কিন্তু আমার কলিজার টুকরা আয়েশা উঠতে পারেনি। সে আর কোনো দিন ফিরে আসবে না ‘

আফসোস করে গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘আর মাত্র ছয় মাস হলেই হয়তো আমার মেয়েটি কোরআনে হাফেজ হতে পারত। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন