কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উপাত্ত এনে দিতে পারলেও সেই উপাত্তের পেছনের মানবিক সত্যকে আবিষ্কার করার চোখ কেবল একজন পেশাদার সাংবাদিকেরই থাকে। তাই প্রযুক্তির দাস না হয়ে, আমাদেরকে প্রযুক্তির দক্ষ চালক হতে হবে বলে মনে করছেন প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক মারুফ কামাল খান।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর উদ্যোগে নবগঠিত ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) ভুক্ত সংবাদমাধ্যগুলোর সাংবাদিকদের জন্য ‘ডিজিটাল সাংবাদিকতা, এআই ও ফ্যাক্টচেকিং’ বিষয়ক দুদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম ও দৈনিক আমার দেশ এর উপ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ বিন জুলফিকার।
পিআইবি অনুষ্ঠিত এই কর্মশালার আজ শনিবার ছিল দ্বিতীয় ব্যাচের প্রথম দিন।
মারুফ কামাল খান বলেন, এআই আজ মানুষের পড়ার টেবিল থেকে শুরু করে সংবাদ কক্ষের ভেতরের সমীকরণ পর্যন্ত বদলে দিচ্ছে। এআই কাজকে সহজ করছে, দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণে সাহায্য করছে এবং কনটেন্ট তৈরিতে অভাবনীয় গতি এনে দিচ্ছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, এআই একটি শক্তিশালী ‘টুল’ বা হাতিয়ার মাত্র—তা কখনোই মানুষের মেধা, বিবেক এবং মানবিক মূল্যবোধের বিকল্প হতে পারে না।
তিনি বলেন, ডিজিটাল সাংবাদিকতার এই জোয়ারে আমাদের সামনে সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ‘ভুয়া খবর’ বা ফেক নিউজ এবং অপতথ্য। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিস্তারের ফলে আজ যে কেউ তথ্য ছড়াতে পারছে। একটি ভুল তথ্য বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার মুহূর্তের মধ্যে সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে, ব্যক্তিজীবন ধ্বংস করতে পারে, এমনকি রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতাকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে। এই চরম বাস্তবতায় ‘ফ্যাক্টচেকিং’ বা তথ্য যাচাইকরণ আজ কোনো ঐচ্ছিক বিষয় নয় বরং এটি সাংবাদিকতার অন্যতম প্রধান শর্ত ও নৈতিক দায়িত্ব। সাধারণ পাঠক বা দর্শক যখন তথ্যের গোলকধাঁধায় বিভ্রান্ত হন, তখন তারা পেশাদার সাংবাদিকদের দিকেই তাকিয়ে থাকেন সত্যের সন্ধানে। মানুষের সেই ভরসার জায়গাটি ধরে রাখতে হলে প্রতিটি সংবাদ প্রকাশের আগে এর সত্যতা শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে। আর এ কারণেই প্রশিক্ষণে ফ্যাক্টচেকিংকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দুই দিনব্যাপী এই কর্মশালায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত ৩০ জল সংবাদকর্মী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। সংবাদ তৈরি করতে এআই, জেমিনি, নোটবুকএলএম অ্যাপসসহ অন্যান্য প্রযুক্তির সহায়তা কিভাবে নেওয়া যায়, তা প্রশিক্ষণে শেখানো হয়। ভুয়া খবর যাছাইকরণ এবং এর সঠিকতা তুলে ধরার নিয়ম, গ্রাফিক্স ডিজাইনার ছাড়াই প্রযুক্তির মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যে গ্রাফিক্স করার উপায়, গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ কিংবা ডকুমেন্টেস নিরাপত্তা বজায় রেখে সংরক্ষণের নিয়মাবলি শিখাচ্ছেন প্রশিক্ষকরা। এতে একজন সংবাদকর্মী প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি সঠিকভাবে সংবাদ তৈরি করার জ্ঞান অর্জন করতে পারছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


