ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটও অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ। গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য জামায়াতের নেতাকর্মীরা সাধারণ ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করলেও বিএনপির নেতাকর্মীরা এ ব্যাপারে কোনো ধরনের নির্দেশনা দিচ্ছেন না। এটা সাধারণ ভোটারদের ইচ্ছা বা পছন্দের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন। ঢাকা-১৫ আসনের কয়েকটি কেন্দ্রে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলে এমনটিই জানা গেছে।
গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে রায় দেওয়ার ব্যাপারে বিএনপি চেয়ারম্যানসহ অন্য নেতারা আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য কাউকে উদ্বুদ্ধ করছেন না। এমনকি সংসদীয় আসনের বিএনপি নেতারাও তাদের কর্মী-সমর্থকদের এ ব্যাপারে কোনো নিদর্শনা দেননি বলে জানান ধানের শীষের ভোটাররা।
শেরেবাংলা থানার (আংশিক) কৃষক দলের আহ্বায়ক মো. সেলিম গণভোটের ব্যাপারে আমার দেশকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা ভোটারদের পছন্দের ওপর ছেড়ে দিয়েছি। কেউ চাইলে ‘হ্যাঁ’তে কিংবা ‘না’তেও দিতে পারে। আমরা এ ব্যাপারে কাউকে কিছু বলছি না। তিনি ব্যক্তিগতভাবে ‘না’ ভোট দিয়েছেন জানিয়ে বলেন, অন্যরা চাইলে ‘হ্যাঁ’ ভোটও দিতে পারে, এটা নিয়ে আমাদের কোনো জোরজবরদস্তি নেই। কিন্তু দলীয় প্রধান ‘হ্যাঁ’র পক্ষে ভোট দিতে বলেছেন এমন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের দলীয় প্রার্থীর পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। গণভোটের বিষয়টি একেবারে ব্যক্তিগত চিন্তার বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।’
গণভোট নিয়ে বিএনপির একজন এজেন্ট মিন্টু খন্দকার আমার দেশকে বলেন, ‘এটা আমরা সাধারণ মানুষের মর্জির ওপর ছেড়ে দিয়েছি। আমরা শুধু আমাদের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাইছি। কাফরুলের হালিম ফাউন্ডেশন স্কুলের ভোটার এবং গলায় ধানের শীষের কার্ড ঝোলানো ছিল কামাল হোসেন নামে বিএনপির একজন সমর্থক আমার দেশকে বলেন, ‘গণভোটের ব্যাপারে আমাদের নেতারা কিছু বলেননি। আমরা আমাদের নিজস্ব ভাবনায় ভোট দিচ্ছি।’
গণভোট নিয়ে বিএনপির এমন অবস্থানের বিপরীত চিত্র জামায়াতের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। তারা নিজের দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি গণভোটে ‘হ্যাঁ’তে ভোট দেওয়ার জন্য সাধারণ ভোটারদের উদ্বুদ্ধ করছেন। তারা গণভোটকে পরিবর্তনের একটা উপায় বলে মনে করছেন।
ঢাকা-১৫ আসনের একই কেন্দ্রের ভোটার ও জামায়াত সমর্থক এম নূরুল আমিন আমার দেশকে বলেন, ‘আমরা গণভোটে ‘হ্যা’তে নিজেরাও ভোট দিচ্ছি, অন্য ভোটারদেরও উদ্বুদ্ধ করছি।’ তিনি বলেন, গণভোট আলাদাভাবে হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু একটি দলের বিরোধিতার কারণে সংসদ নির্বাচনের একই দিনে এটি হচ্ছে।
গণভোটকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে দাঁড়িপাল্লার এই সমর্থক বলেন, ‘আমরা রাষ্ট্রকাঠামোর পরিবর্তন চাই। আর এই পরিবর্তনের মাধ্যমে জনগণের অধিকার রক্ষায় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।’ মো. নূরুল হাসান নামে জামায়াতের স্থানীয় একজন নেতা আমার দেশকে বলেন, ‘আমরা শুরু থেকেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে। এটা দলীয় সিদ্ধান্ত এবং মাঠ পর্যায়ের সবাই ‘হ্যাঁ’তে ভোট দেওয়ার জন্য প্রচার-প্রচারণাও চালিয়ে আসছে। জহিরুল বিশ্বাস নামে জামায়াতের একজন এজেন্ট আমার দেশকে বলেন, ‘আমরা ভোটারদের ‘হ্যাঁ’তে ভোট দেওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছি এবং আমরা নিজেরাও ‘হ্যাঁ’তেই ভোট দিচ্ছি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

