দেশ আমাদের সবার, তাই সরকার ও বিরোধীদলসহ ১৮ কোটি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
তিনি বুধবার ঢাকা-১৫ আসনে নানামুখী সমস্যা নিরসনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন।
নির্বাচনি এলাকার ৪টি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে পরিদর্শনের পর মতবিনিময়ে একইমঞ্চে অংশ নেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুর রহমান মিল্টন।
তারা ইব্রাহিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তা (১৬ নং ওয়ার্ড ), পশ্চিম শেওড়াপাড়া ৩ নং গলি (১৪ নং ওয়ার্ড), পুর্ব মনিপুর বাইতুর রহিম জামে মসজিদ সংলগ্ন রাস্তা (১৩ নং ওয়ার্ড) এবং বাইশটেকি সরকার বাড়ি (৪নং ওয়ার্ড) এলাকার নানা জনসমস্যার দিক সরজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় জনগণ তাদের সমস্যার কথা তুলে ধরেন। সরকারি ও বিরোধীদলের নেতারা এসব সমস্যা সমাধানের আশ্বাস প্রদান করেন।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আমিনুল ইসলাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুন-উল-হাসান, কাফরুল থানার অফিসার-ইন-চার্জ সাজ্জাদ হোসেন, মিরপুর থানা আমির ও কাফরুল থানা জামায়াতের আমির এবং বিএনপির মহানগর উত্তরের নেতারা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দিষ্ট কোনো দল বা আসনের নন ববং তিনি সারাদেশের তথা ৩শ‘ আসনের প্রধানমন্ত্রী। তাই আমি আমার আসনের উন্নয়নের দায়িত্ব তার হাতেই অর্পন করেছি। তিনি সংসদের অভিভাবক হিসাবে তা গ্রহণ করেছেন এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে বিষয়টি দেখভাল করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ীই আমরা ঢাকা-১৫ আসনের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার চেষ্টা করেছি। আমরা স্বল্প সময়ের মধ্যেই এসব সমস্যা সধানের চেষ্টা করবো-ইনশাআল্লাহ। তিনি সরকারের উন্নয়ন কাজে স্থানীয় জনগণকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহবান জানান।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ঢাকা-১৫ আসন নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত। মাত্রাতিরিক্ত খানা-খন্দক, ভঙ্গুর রাস্তা ও রাস্তার মাঝখানে লাইট পোষ্ট থাকার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত। সর্বোপরি এ আসনে পানির সমস্যা প্রকট। জলবদ্ধতা, পানিতে দুর্গন্ধ, গ্যাসের সমস্যা, কিশোর গ্যাং ও রাস্তায় রাস্তায় জটলা এখানকার উল্লেখযোগ্য সমস্যা। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ডিএনসিসির প্রশাসকসহ আমরা সমস্যা সমস্যা সমাধানে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ গ্রহণ করার চেষ্টা করছি। তিনি এ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এ সময় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বিরোধী দলীয় নেতার আহবানে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঢাকা-১৫ আসনের সমস্যা সমাধানের জন্য আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে এমন নজির বা দৃষ্টান্ত নেই। এটিই আমাদের ভবিষ্যৎ সম্ভবনা ও পরিবর্তন।
তিনি বলেন, বিরোধী দলীয় নেতা এমন এক ব্যক্তিত্ব, তিনি মুহুর্তের মধ্যেই সংসদের পরিবেশের ভারসাম্য আনতে সক্ষম হন। তিনি জনগণকে ধৈর্যধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান করা হবে। রাতারাতিই কোনো কিছু করা সম্ভব নয়। তিনি পরিবর্তনের ধারায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান।
এ সময় ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুর রহমান মিল্টন বলেন, দেশ কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা দলের নয় বরং সবার। তাই সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়েই সব সমস্যার সমাধানে কাজ করে যেতে হবে। তিনি ঢাকা-১৫ আসনে উন্নয়নে বিশেষ দৃষ্টি দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

