দেশে আবারও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। সরকার ভোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য রেকর্ড প্রায় ২০ শতাংশ বাড়িয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে বেড়েছে ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ। খুচরা পর্যায়ে মধ্যবিত্ত পরিবার যে ধাপে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে, সেই চতুর্থ ধাপে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে ১৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ। নিম্নচাপের (এলটি) বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীদের সাত ধাপের গড় বৃদ্ধির হার ১৮ দশমিক ২১ শতাংশ।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম এক টাকা ৩৯ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে গড়ে এক টাকা ৫৯ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়েই মূল্যবৃদ্ধির এ ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। চলতি জুন থেকে থেকেই নতুন মূল্যহার কার্যকর হবে, যা আগামী জুলাই মাসে পরিশোধ করতে হবে।
গতকাল বুধবার সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ এ ঘোষণা দেন। এর আগে গত ১৯ ও ২০ মে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে গণশুনানি হয়। গণশুনানির মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে কমিশন এ আদেশ দিয়েছে। বিদ্যুতের এ রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের প্রায় চার কোটি ৯৮ লাখ গ্রাহকের পাশাপাশি জনজীবনের মারাত্মক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা ভোক্তাদের। এর প্রভাব শুধুমাত্র সরাসরি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সীমাবদ্ধ না থেকে হবে বহুমাত্রিক। গণশুনানিতে ভোক্তারা দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়ার প্রবল বিরোধিতা করেন। কিন্তু তা পুরোপুরি উপেক্ষা করে বিইআরসি। যদিও দায়িত্ব গ্রহণের পর এক অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী দুই বছর বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে না বলে আশ্বস্ত করেছিলেন।
বিদ্যুতের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির কারণে ক্ষুদ্র থেকে শুরু করে বৃহৎ শিল্প, বাণিজ্যিক ও অফিস-আদালতভিত্তিক গ্রাহকদের ওপর চাপ পড়বে সবেচেয় বেশি। বিদ্যুতের লোডের (নিম্ন, মধ্যম ও উচ্চচাপ) ভিত্তি করে বিল দিতে হবে গ্রাহকদের। সান্ধ্যকালীন (পিক আওয়ার) বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে বেশি। এতে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও আশঙ্কা ভোক্তাদের।
কমিশনের আদেশে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে সরকারের প্রস্তাবনার পুরোপুরি প্রতিফলন কি না এবং এটি জনজীবনকে আরো দুর্বিষহ করে তুলবে কি না- এমন দুটি প্রশ্ন ছিল বিইআরসির চেয়ারম্যানের কাছে। জবাবে সংস্থাটির চেয়ারম্যান বলেন, বিরাজমান পরিস্থিতি বিচার-বিশ্লেষণ করে দাম বাড়ানোর বিষয়ে এ আদেশ দেওয়া হয়েছে। দাম বাড়লে এর প্রভাব কিছুটা জনজীবনে পড়বে, এটাই স্বাভাবিক। এখনো সরকারকে ৪১ হাজার কোটি টাকা বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দিতে হবে বলেও জানান তিনি।
রেকর্ড দাম বৃদ্ধি
লাইফলাইন (প্রান্তিক গ্রাহক) ছাড়া বাকি ছয়টি ধাপে বিদ্যুতের রেকর্ড পরিমান দাম বাড়ানো হয়েছে। এর আগে ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ হারে বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হয়েছিল। এবার সেটা ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড গড়েছে। বিইআরসির গতকালের আদেশ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২৩ সালে
প্রথম ধাপে ০ থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল। ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি তা আরো আট দশমিক ৪৫ শতাংশ বাড়িয়ে করা হয় পাঁচ দশমিক ২৬ টাকা। আর এবার ১৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ বাড়িয়ে এ ধাপের বিদ্যুতের দাম করা হয় প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ১৮ পয়সা।
দ্বিতীয় ধাপে ৭৬ থেকে ২০০ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ২০২০ সালে ছিল ৫ দশমিক ৭২ টাকা। ২০২৩ সালে বাড়ানো হয় ১৫ দশমিক ৯০ শতাংশ। আর ২০২৪ সালে বাড়ানো হয় ৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এবার এ ধাপের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১৮ দশমিক ০৫ শতাংশ বাড়িয়ে করা হয় আট টাকা ৫০ পয়সা।
তৃতীয় ধাপে ২০১ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ২০২০ সালে ছিল ৬ টাকা। ২০২৩ সালে এ ধাপের বিদ্যুতের দাম ১৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ আর ২০২৪ সালে বাড়ানো হয় ৯ দশমিক ২০ শতাংশ। এবার এ ধাপের বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৯ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম করা হয় ৯ টাকা ১০ পয়সা।
চতুর্থ ধাপে ৩০১ থেকে ৪০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ছিল ৬ টাকা ৩৪ পয়সা। ২০২৩ সালে বাড়ানো হয় ১৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ আর ২০২৪ সালে বাড়ানো হয় ৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। এবার এ ধাপের প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৯৫ শতাংশ বাড়িয়ে করা হয় ৯ টাকা ৬২ পয়সা।
পঞ্চম ধাপে ৪০১ থেকে ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত ২০২০ সালে ছিল ৯ টাকা ৯৪ পয়সা। ২০২৩ সালে ১৫ দশমিক ৭৯ শতাংশ আর ২০২৪ সালে ১০ দশমিক ০৭ শতাংশ বাড়ানো হয়। এবার ১৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম করা হয় ১৫ টাকা ১ পয়সা। এ ধাপে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে দুই টাকা ৩৪ পয়সা।
৬ষ্ঠ ধাপে ৬০০ ইউনিটের ঊর্ধ্বে ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ২০২০ সালে ছিল ১১ টাকা ৪৬ পয়সা। ২০২৩ সালে ১৫ দশমিক ৭০ শতাংশ বাড়িয়ে ১৩ টাকা ২৬ পয়সা করা হয়। ২০২৪ সালে ১৩ দশমিক ১৯ শতাংশ বাড়িয়ে করা হয় ১৪ টাকা ৬১ পয়সা। এবার ১৮ দশমিক ৭৫ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ টাকা ৩৫ পয়সা। এ ধাপে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম সর্বোচ্চ দুই টাকা ৭৪ পয়সা বাড়ানো হয়েছে।
আবাসিক গ্রাহকদের মাথায় কোপ
বিআরসির নতুন আদেশ অনুযায়ী, আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ব্যবহারভেদে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৬৯ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ দুই টাকা ৭৪ পয়সা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আবাসিক গ্রাহকদের জন্য এটি ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখছেন ভোক্তারা।
নতুন দর অনুযায়ী, আবাসিকের লাইফলাইন (০ থেকে ৫০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারী) গ্রাহকদের বর্তমান ইউনিটপ্রতি বিল চার দশমিক ৬৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচ দশমিক ৩২ টাকা করা হয়েছে। এ শ্রেণির গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল মাসে ৩৫ টাকার মতো বেড়ে যাবে। আবাসিক গ্রাহকদের মধ্যে যারা ৬০০ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহার করেন, তাদের বিল বাড়বে এক হাজার ৬৪৪ টাকা। এর সঙ্গে আনুপাতিকহারে ভ্যাটের পরিমাণও বাড়বে।
আবাসিকে বাকি ছয় ধাপের মধ্যে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের বিল ইউনিটপ্রতি ৫ দশমিক২৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬ দশমিক ১৮ টাকা, দ্বিতীয় ধাপে ৭৬-২০০ ইউনিট পর্যন্ত সাত দশমিক ২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে আট দশমিক ৫০ টাকা, ২০১-৩০০ ইউনিট পর্যন্ত সাত দশমিক ৫৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ দশমিক ১০ টাকা, ৩০১-৪০০ ইউনিট পর্যন্ত আট দশমিক ০২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ দশমিক ৬২ টাকা, ৪০১-৬০০ ইউনিট ১২ দশমিক ৬৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ দশমিক ০১ টাকা এবং সর্বশেষ ধাপ ৬০০ ইউনিটের ঊর্ধ্বে ব্যবহারকারীদের বিল ইউনিটপ্রতি ১৪ দশমিক ৬১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭ দশমিক ৩৫ করা হয়েছে।
মধ্যমচাপে (১১ কেভি) ৫০ কিলোওয়াট থেকে ৫ মেগাওয়াট পর্যন্ত গ্রাহকদের ফ্ল্যাট রেট ১০ দশমিক ৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৫০ টাকা, অফ-পিকআওয়ারে ৯ দশমিক ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ২৫ টাকা এবং পিকআওয়ারে (সান্ধ্যকালীন) ১৩ দশমিক ২৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ দশমিক ৬২ টাকা টাকা করা হয়েছে।
চাপভিত্তিক (লোড) দাম
কমিশনের আদেশ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নিম্নচাপে (২৩০/৪০০ ভোল্ট) ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের জন্য পিক আওয়ারে ইউনিটপ্রতি ১২ দশমিক ৯৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ দশমিক ২৭ টাকা করা হয়েছে। অফ-পিকে ৯ দশমিক ৬৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৪৫ টাকা এবং ফ্ল্যাট রেট ১০ দশমিক ৭৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৭৩ টাকা করা হয়েছে।
নিম্নচাপে বাণিজ্যিক ও অফিসের জন্য পিক আওয়ারে ইউনিটপ্রতি ১৫ দশমিক ৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৮ দশমিক ৪৩ টাকা করা হয়েছে। অফ-পিকে ১১ দশমিক ৭১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৮২ টাকা এবং ফ্ল্যাট রেট ১৩ দশমিক ০১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ দশমিক ৩৬ টাকা করা হয়েছে।
মধ্যমচাপ (১১ কেভি) বাণিজ্যিক ও অফিসের জন্য পিকে ইউনিটপ্রতি ১৪ দশমিক ৫৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭ দশমিক ৪১ টাকা; অফ-পিকে ১০ দশমিক ৪৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৫৪ টাকা এবং ফ্ল্যাট রেট ১১ দশমিক ৬৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৯৩ টাকা করা হয়েছে।
উচ্চচাপে (৩৩ কেভি) পিকে ১৪ দশমিক ৪০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৭ দশমিক ০৫ টাকা করা হয়েছে। অফ-পিকে ১০ দশমিক ২৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ দশমিক ২৮ টাকা, ফ্ল্যাট রেটে ১১ দশমিক ৩৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩ দশমিক ৬৩ টাকা করা হয়েছে।
উচ্চচাপ শিল্প প্রতিষ্ঠানে পিকে ১৩ দশমিক ৪৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫ দশমিক ৯৩ টাকা, অফ-পিকে ৯ দশমিক ৬৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৪৭ টাকা, ফ্ল্যাট রেটে ১০ দশমিক ৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২ দশমিক ৭৫ টাকা করা হয়েছে।
এছাড়া অতি উচ্চচাপ (১৩২ কেভি এবং ২৩০ কেভি) ইএইচটি-১ সাধারণ এবং ইএইচটি-২ সাধারণ শ্রেণিতেও দাম বাড়ানো হয়েছে।
সেচ ও ব্যাটারি চার্জিংয়ে বাড়তি বিল
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণায় সেচ, রাস্তার বাতি, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও ব্যাটারি চার্জিংয়ে বাড়তি বিল যোগ হচ্ছে। নিম্নচাপে সেচে পাঁচ দশমিক ২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ছয় দশমিক ০৪ টাকা এবং ব্যাটারি চার্জিংয়ে পিক আওয়ারে ১২ দশমিক ১৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ দশমিক ২০ টাকা, অফ-পিকে আট দশমিক ৬৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ দশমিক ২২ টাকা করা হয়েছে।
পিক আওয়ার (সান্ধ্যকালীন) বিদ্যুতের নতুন দাম পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বৈদ্যুতিক যানবাহন ও ব্যাটারি চার্জিংয়ে (নিম্নচাপ) ফ্ল্যাট রেট ইউনিটপ্রতি ৯ দশমিক ৫৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৩৬ টাকা, অফ-পিকে আট দশমিক ৬৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ দশমিক ২২ টাকা, সুপার অফ-পিকে সাত দশমিক ৭১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ দশমিক ০৯ টাকা এবং পিকে ১২ দশমিক ১৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৪ দশমিক ২০ টাকা করা হয়েছে।
ব্যাটারি চার্জিংয়ে (মধ্যমচাপ ১১ কেভি) ফ্ল্যাট রেট ইউনিটপ্রতি ৯ দশমিক ৬২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৩১ টাকা, অফ-পিকে ১০ দশমিক ১৮ টাকা, সুপার অফ-পিকে ৯ দশমিক ০৫ টাকা এবং পিকে ১৪ দশমিক ১৪ টাকা করা হয়েছে।
অন্যদিকে কৃষি সেচে (মধ্যমচাপ) ফ্ল্যাট রেট ছয় দশমিক ৪২ টাকা থেকে বাড়িয়ে সাত দশমিক ৩৮ টাকা, অফ-পিকে পাঁচ দশমিক ৭৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ছয় দশমিক ৬৪ টাকা এবং পিকে আট দশমিক ০৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ দশমিক ২৩ টাকা করা হয়েছে।
নিম্নচাপে শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান দাতব্য প্রতিষ্ঠান এবং হাসপাতালে ইউনিটপ্রতি সাত দশমিক ৫৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯ দশমিক ০৫ টাকা করা হয়েছে।
পাইকারিতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম সাত দশমিক ০৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে গড় দাম আট দশমিক ৩৯ টাকা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের সময়ে বিদ্যুতের ওপর থেকে ভর্তুকির চাপ কমানোর লক্ষ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণকারী সংস্থাগুলো শুনানির শুরুতেই পাইকারি বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় পিডিবি। দাম বাড়ানোর পক্ষে একই যুক্তি তুলে ধরেন বিদ্যুৎ বিতরণকারী অন্য সংস্থার প্রধানরাও। তবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর এ প্রক্রিয়ার প্রবল বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নাগরিকরা। তাদের মতে, এমনিতেই দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি। এর মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়লে জনগণের নাভিশ্বাস অবস্থা হবে।
তারা বলেন, সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হবে নিম্ন-আয়ের মানুষ। বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে শুনানিতে ক্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, জনগণের অবস্থা বিবেচনা করলে এখানে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব তো দূরের কথা, শুনানির আয়োজনই করার কথা নয়। বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি, অনিয়ম ও লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে এ শিক্ষাবিদ বলেন, বিইআরসি দেশের ও জনগণের স্বার্থ রক্ষার পরিবর্তে লুটেরাদের স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে। বিদ্যুৎ খাত থেকে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হচ্ছে। এখনো বিদ্যুৎকেন্দ্র বসিয়ে রেখে তাদের টাকা দিচ্ছে সরকার। এসব অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না। সবার আগে উচিত বিদ্যুৎ খাতের লুটেরাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া।
গতকাল আদেশ দেওয়ার সময় বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ ছাড়াও কমিশনের সদস্য মো. আবদুর রাজ্জাক, মো. মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শাহীদ সারওয়ার উপস্থিত ছিলেন।
এমবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


