রাজধানীর ডেমরা ও সবুজবাগে পৃথক ঘটনায় দুই নারীর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ডেমরায় ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তার স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। অন্যদিকে সবুজবাগে এক পুলিশ কর্মকর্তার স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবার ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তিনি মানসিক অবসাদের কারণে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
রোববার (২৮ জুন) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, নিহত দুই নারীর লাশ হাসপাতাল মর্গে ময়না তদন্তের জন্যে রাখা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, শনিবার দিবাগত রাতে ডেমরার স্টাফ কোয়ার্টার বাঁশেরপুল এলাকার একটি বাসা থেকে নাসরিন আক্তার (২৭) নামে এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে রোববার দুপুরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ডেমরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শায়েখ খসরু জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
তবে নিহতের বাবা কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেন দাবি করেন, তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, নাসরিনের স্বামী পলাশ একজন প্রাইভেটকার চালক এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। মেয়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। ইকবাল হোসেন জানান, শনিবার রাত দেড়টার দিকে পলাশ ফোন করে জানান, নাসরিন গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা লাশ দেখতে পান। তিনি বলেন, প্রায় নয় বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। একসময় তাদের একটি সন্তান জন্ম নিলেও পরে মারা যায়। নাসরিন বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাইফুর রহমান মির্জা বলেন, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যার ঘটনা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিহতের স্বামী পলাশকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
এদিকে রোববার (২৮ জুন) সকালে রাজধানীর সবুজবাগের দক্ষিণগাঁও শাহীবাগ এলাকায় ভাড়া বাসা থেকে নিলুফার ইয়াসমিন (২৯) নামে এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
সবুজবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফাতেমা জানান, সকাল সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৮টার মধ্যে কোনো একসময় পরিবারের অগোচরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন নিলুফার। পরে তার লাশ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের স্বামী পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন, যিনি গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত। তিনি জানান, প্রায় ১৪ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে আবাসিক মাদ্রাসায় লেখাপড়া করে এবং মেয়ে আফিয়া (৭) মায়ের সঙ্গে দক্ষিণগাঁওয়ের ভাড়া বাসায় থাকত। আনোয়ার হোসেনের ভাষ্য, তার স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সহজেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়তেন। বিশেষ করে ছেলের লেখাপড়া ও পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে উদ্বিগ্ন ছিলেন। সেই মানসিক অবসাদ থেকেই তিনি আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, দুটি ঘটনাতেই ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

