প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর: ৯ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে ঐকমত্য

স্টাফ রিপোর্টার

প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফর: ৯ খাতে সহযোগিতা বাড়াতে ঐকমত্য

মালয়েশিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, শ্রমবাজার, শিক্ষা, প্রতিরক্ষা, আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ ৯টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে অগ্রগতির সিদ্ধান্ত হয়েছে। সফর শেষে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্‌দী আমিন এসব তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফর হিসেবে মালয়েশিয়া সফর করেছেন। মাত্র ১৮ ঘণ্টার সংক্ষিপ্ত এই সফরে তিনি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতো সেরি আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

প্রেস কনফারেন্সে জানানো হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানো বিশ্বনেতাদের অন্যতম ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ঐতিহাসিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।

লালগালিচা সংবর্ধনা ও উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

মালয়েশিয়ার আমন্ত্রণে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়া সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী জুলকিফলি হাসান ও তাঁর সহধর্মিণী।

পরে প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। বিমানবন্দর থেকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে কুয়ালালামপুরের শাংগ্রি-লা হোটেলে নেওয়া হয়।

প্রেস কনফারেন্সে বলা হয়, সফরকালে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রথমে একান্ত বৈঠক এবং পরে প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন।

৩৩ পয়েন্টের যৌথ বিবৃতি

দুই দেশের আলোচনায় রাজনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, হালাল শিল্প, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর, শ্রমিক কল্যাণ, শিক্ষা, পর্যটন, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।

দুই দেশের সম্মতিতে ৯টি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩৩টি পয়েন্টের একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর আলোচনা

সফরে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ও রাজার সঙ্গে আলোচনায় কম খরচে, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান।

এছাড়া বিভিন্ন কারণে মালয়েশিয়ায় অনিয়মিত অবস্থায় থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের মানবিক বিবেচনায় বৈধতার আওতায় আনা অথবা প্রয়োজন হলে নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি সহযোগিতা

দুই দেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের লক্ষ্যে আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে শিল্প খাতে সহযোগিতা বাড়ানো এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

এআই, ডিজিটাল অর্থনীতি, সাইবার নিরাপত্তা এবং আধুনিক প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রযুক্তি পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চলে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা ও প্রতিরক্ষা খাতে সহযোগিতা

মালয়েশিয়ায় অধ্যয়নরত প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর বিষয়টি আলোচনায় আসে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে অংশীদারিত্ব, যৌথ গবেষণা এবং দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা সম্প্রসারণে দুই দেশ একমত হয়েছে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি, সামরিক প্রশিক্ষণ, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম এবং সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সক্ষমতা বৃদ্ধিতেও সহযোগিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

এছাড়া আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকা এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (RCEP)-এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে মালয়েশিয়ার সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় আসে।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

সফরে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর হয়েছে। পাশাপাশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও সন্ত্রাস দমনে দুটি এক্সচেঞ্জ অব নোটস বিনিময় করা হয়।

সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ার বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল পেট্রোনাস, আজিয়াটা, এয়ারএশিয়া, পারডুয়া ও এমএমসি পোর্ট।

প্রেস কনফারেন্সে মাহ্‌দী আমিন বলেন, এই সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন