রাজধানীর অভিজাত এলাকা বারিধারা ডিওএইচএসে গত সোমবার গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর অভিযানে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটকের ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। নতুন করে সামনে এসেছে তার আবাসিক ভবনে গার্মেন্ট অফিস পরিচালনার দীর্ঘদিনের অভিযোগটি, যা স্থানীয়দের মধ্যে চাপা ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
ঘটনার পরদিন গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে বারিধারা ডিওএইচএসের ১ নম্বর রোডের ১৫৩ নম্বর বাড়ি গিয়ে দেখা যায় থমথমে পরিবেশ। সাড়ে ছয় তলাবিশিষ্ট ভবনটির নিচে নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি থাকলেও ভেতরে তেমন কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, ভবনটির পঞ্চম ও ষষ্ঠ তলায় পরিবারসহ বসবাস করতেন মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।
বাড়ির নিরাপত্তাকর্মী মিরাজ জানান, সোমবার রাত প্রায় ২টার দিকে ১০টি গাড়ির একটি বহর এসে বাড়ির সামনে থামে। গাড়ি থেকে নেমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা তালা খুলে দিতে বলেন। একপর্যায়ে তালা খুলে দেওয়া হলে ডিবি পুলিশের সদস্য ও কর্মকর্তারা দ্রুত বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করেন। অভিযানের একপর্যায়ে তারা উপরতলা থেকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে আটক করে নিচে নামান এবং দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।
প্রভাব খাটিয়ে আবাসিক ভবনে
বাণিজ্যিক কার্যক্রম
মাসুদ চৌধুরীর গ্রেপ্তারের ঘটনার পর ভবনটিকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে দীর্ঘদিনের অভিযোগÑ আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি। স্থানীয়দের
অভিযোগ ও সরেজমিন দেখা গেছে, ভবনটির নিচতলা গ্যারেজ হিসেবে ব্যবহৃত হলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় চলছে একটি গার্মেন্ট অফিসের বাণিজ্যিক কার্যক্রম।
বারিধারা ডিওএইচএসের মতো সংরক্ষিত এলাকায় আবাসিক ফ্ল্যাটে বাণিজ্যিক অফিস পরিচালনা করা আইনত দণ্ডনীয় হলেও মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর প্রভাবে এলাকাবাসী এতদিন মুখ খুলতে সাহস পাননি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পরও কেউই নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।
আশপাশের বাসিন্দারা জানান, আবাসিক এলাকায় এমন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতিতে তাদের চলাচলে বিভিন্ন সমস্যা পোহাতে হতো। কিন্তু সাবেক এই জেনারেলের ক্ষমতার সামনে সবাই অসহায় ছিলেন।
এলাকার বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এ ভবনে গার্মেন্ট অফিস চালানোর কারণে পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত বিভিন্ন সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রভাবশালী অবস্থানের কারণে বিষয়টি নিয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ২০০৭ সালের এক-এগারোখ্যাত কুখ্যাত মঈন উদ্দিন-ফখরুদ্দীন সরকারের অপশাসনের কথা তুলে ধরে অনেকেই বলছেন, এর অন্যতম কুশীলব ছিলেন এই মাসুদ। ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে গিয়ে দেশকে কার্যত ভারতের হাতে তুলে দিয়েছিলেন এই মাসুদ, মইন ও ফখরুদ্দীন গং। এমন একজন উচ্চপদস্থ সাবেক সামরিক কর্মকর্তার বাসভবনে আবাসিক এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ সামনে এনে বিষয়টি খতিয়ে দেখারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

