ব্যাংক একাউন্ট খুলতে এবং ১৫০ সিসি ও তদূর্ধ্ব সিসির মোটরবাইক কিনতে লাগবে আয়কর রিটার্নের সার্টিফিকেট। ত্রি-চক্র মোটরযান কেনার জন্যও দিতে হবে রিটার্নের দালিলিক প্রমাণ। তবে বিদেশী নাগরিকদের কোম্পানির পরিচালক বা স্পন্সর হওয়ার জন্য রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
আয়কর আইন ২০২৩ এর ২৬৪ ধারায় একজন ব্যক্তির বেশকিছু সেবা বা পণ্য ক্রয় বা সুবিধা গ্রহণে রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে সে ধারায় ব্যাংক একাউন্ট ও মোটরবাইকের বিষয়টিও যুক্ত করা হয়েছে।
আয়কর আইন সংশোধনের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র দাখিলের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। স্টুডেন্ট একাউন্ট, নো-ফ্রিলস একাউন্ট এবং বোর্ড কর্তৃক, সময় সময় সরকারি গেজেট প্রজ্ঞাপন দ্বারা ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন দাখিলের বাধ্যবাধকতা হইতে অব্যাহতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ব্যতীত যে কোন ধরনের ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন লাগবে।
প্রসঙ্গত, সাধারণত ব্যাংকিং সেবায় ‘নো-ফ্রিলস’অ্যাকাউন্ট বলতে এমন এক ধরণের ব্যাংক অ্যাকাউন্টকে বোঝায়, যা অত্যন্ত সাধারণ বা ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন। এই অ্যাকাউন্টগুলো মূলত স্বল্প আয়ের মানুষ বা যারা খুব সীমিত ব্যাংকিং সেবা প্রয়োজন তাদের জন্য তৈরি করা হয়।
এই ধরনের অ্যাকাউন্ট খোলার নিয়মাবলী সাধারণ অ্যাকাউন্টের তুলনায় অনেক সহজ। অনেক ক্ষেত্রে নামমাত্র নথিপত্র দিয়েই এটি খোলা যায়। এই অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য বা চালু রাখার জন্য ব্যাংকে কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা রাখার বাধ্যবাধকতা থাকে না। বাংলাদেশে প্রচলিত ‘স্কুল ব্যাংকিং’ বা ‘কৃষক/শ্রমিক/নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য খোলা ১০/৫০/১০০ টাকার বিশেষ হিসাব—এগুলো মূলত নো-ফ্রিলস অ্যাকাউন্টেরই বিভিন্ন রূপ।
অপরদিকে ১৫০ ও তদূর্ধ্ব সিসির মোটরসাইকেল ও ত্রি-চক্র মোটরযান ক্রয়ের ক্ষেত্রেও আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র লাগবে। এ ধরনের যানের নিবন্ধন, মালিকানা পরিবর্তন বা ফিটনেস নবায়নকালে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দাখিল করতে হবে।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক প্রস্তাবনায় মোটর সাইকেলের উপর অগ্রিম আয়কর আরোপের চিন্তা ভাবনা ছিল এনবিআরের। ১১১ থেকে ১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের জন্য বছরে দুই হাজার টাকা, ১২৬ থেকে ১৬৫ সিসির জন্য পাঁচ হাজার টাকা ও ১৬৫ সিসির বেশি হলে ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বাইকারদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে এবং সরকারের উচ্চ মহলের সবুজ সংকেত না পাওয়ায় অগ্রিম আয়কর বসানোর পরিকল্পনা থেকে পিছু হটে এনবিআর। অগ্রিম আয়কর থেকে রেহাই পাওয়া গেলেও মোটরবাইক কেনায় আগ্রহী ক্রেতাকে আয়কর রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
এদিকে যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা রয়েছে সেসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নবায়নকালেও রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ দেখানোর বাধ্যবাখতা আরোপ করা হয়েছে সংশোধনীতে।
এদিকে বাংলাদেশে নিবন্ধিত কোন কোম্পানির বিদেশী পরিচালক, স্পন্সরের বাংলাদেশে তাদের আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। আয়কর আইনের ২৬৪ ধারায় কোম্পানির পরিচালক বা স্পন্সর শেয়ারহোল্ডার হতে আয়কর রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়। ফলে বিদেশী বিনিয়োগকারীদেরও রিটার্ন দাখিল করতে হয়। কিন্তু আয়কর আইনের সংশোধনীতে শুধুমাত্র নিবাসী করদাতার জন্য রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

