সম্প্রতি গাইবান্ধার সাঘাটায় ছাত্রশিবিরের সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী হত্যাকাণ্ড, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় তরুণ চিন্তক ও অ্যাক্টিভিস্ট ইফতেখার জামিলের বাবার ওপর নৃশংস হামলা এবং মঙ্গলবার ঢাকার ধানমন্ডিতে এক সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ।
ময়মনসিংহের ঘটনায় অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিনের জমিসংক্রান্ত বিরোধ এবং আগের কিছু সামাজিক ও ধর্মীয় ইস্যুকে কেন্দ্র করে একদল ব্যক্তি ইফতেখার জামিলের বাবার ওপর হামলা চালায়। এতে তার পায়ের হাড় ভেঙে যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে, তারা বিরোধী দল জামায়াতের স্থানীয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত এবং হামলার পরও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখানো ও নতুন হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ আছে, স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী কিছু মানুষের নিষ্ক্রিয়তা ও উদাসীনতার কারণে পরিবারটি এখনো নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে আছে।
একইভাবে সংবাদমাধ্যম মারফত জানা গেছে, গাইবান্ধার সাঘাটায় একটি বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ছাত্রশিবিরের সাবেক ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী নিহত এবং আরেক শিবির কর্মী গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাও গভীরভাবে উদ্বেগজনক। বিভিন্ন পক্ষ থেকে হামলায় বিএনপি ও যুবদলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া মঙ্গলবার ধানমন্ডিতে জামায়াতের নেতাকর্মী কর্তৃক দৈনিক সকাল-এর মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মাহফুজুর রহমান শিশির নামের এক সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনাও আমাদের গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। সাংবাদিকেরা সমাজ ও গণতন্ত্রের আয়না ও কণ্ঠস্বর। যদিও এ ঘটনায় জামায়াত ক্ষমা চেয়েছে, তার পরও আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মতপ্রকাশ বা সংবাদ সংগ্রহের কারণে কোনো সাংবাদিকের ওপর হামলা জুলাই-পরবর্তী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
সিটিজেন ইনিশিয়েটিভ মনে করে, রাজনৈতিক পরিচয় কখনোই অপরাধের সুরক্ষা হতে পারে না। আবার কোনো একটি ঘটনার জন্য পুরো রাজনৈতিক সংগঠনকে এককভাবে দোষী করাও ন্যায়সংগত নয়। তবে কোনো সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বা হত্যার অভিযোগ উঠলে সেই সংগঠনেরও নৈতিক দায়িত্ব রয়েছে অভিযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা, ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো এবং অপরাধীদের কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রশ্রয় না দেওয়া।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

