আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

রুহুল কবির রিজভী

ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে জনগণের ন্যায়সঙ্গত রায়ই প্রতিফলিত হবে

স্টাফ রিপোর্টার

ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে জনগণের ন্যায়সঙ্গত রায়ই প্রতিফলিত হবে
ছবি: আমার দেশ

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জনগণ এদেশের সব সময় ন্যায়সঙ্গত বিচার করেছে। এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার যদি নিশ্চিত হয়, তাহলে সঠিক সিদ্ধান্তের প্রতিফলন অবশ্যই ঘটবে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি–এর সঙ্গে বিএনপির মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, সামনে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি দীর্ঘ রক্তঝরা গণতান্ত্রিক সংগ্রামের ফল। গত ১৬–১৭ বছর ধরে দেশের ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেননি, ভোটের দিন যে উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল, তা পরাজিত ফ্যাসিবাদ ধ্বংস করেছে। নির্বাচন মানেই তখন ছিল কেন্দ্র দখল, ভোট লুট ও ভয়ের সংস্কৃতি।

তিনি অভিযোগ করেন, সে সময় নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাহী বিভাগের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করেছে। ইউপি ও উপজেলা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা দেওয়া হয়েছে, কোথাও কেড়ে নেওয়া হয়েছে, কোথাও মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাষ্ট্রযন্ত্র ও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গণতন্ত্রকে নিশ্চিহ্ন করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সেই দুঃসময়ে নির্বাচন কমিশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিকরা সাহসী ভূমিকা রেখেছেন। কমিশন যখন বিএনপির অভিযোগ শুনতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তখন সাংবাদিকরাই সেই বক্তব্য জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন। সীমিত স্বাধীনতার মধ্যেও অনলাইন ও স্ক্রলের মাধ্যমে সত্য প্রকাশ করায় প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ নেতাকর্মীর জীবন রক্ষা পেয়েছে।

তিনি আরো বলেন, গভীর রাতে কালো মাইক্রোবাসে নেতাকর্মীদের তুলে নেওয়ার ঘটনাগুলো সাংবাদিকরা কাভার করেছেন। পুলিশ অস্বীকার করলেও সাংবাদিকদের প্রকাশনার কারণে অনেককে গুমের হাত থেকে বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। এ জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সাম্প্রতিক এক ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে রিজভী বলেন, ক্যান্টনমেন্টের গেটে এক প্রার্থীর অশোভন আচরণ ফ্যাসিবাদী ও হিংসাশ্রয়ী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। ধর্মের নামে নতুন কায়দায় ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান হলে তা আরো ভয়াবহ হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, নারীদের অবমাননা, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে অসভ্য আচরণ কোনো গণতান্ত্রিক রাজনীতির অংশ হতে পারে না। গণতন্ত্র মানে সভ্যতা, প্রগতি ও মানুষের মর্যাদা রক্ষা।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, জনগণ সবকিছু দেখছে ও বিচার করছে। ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত হলে জনগণই গণতন্ত্রকামী শক্তির পক্ষে রায় দেবে—এটাই তার দৃঢ় বিশ্বাস।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...