আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জামানত হারালেন আম জনতার তারেক, কত ভোট পেলেন

আমার দেশ অনলাইন

জামানত হারালেন আম জনতার তারেক, কত ভোট পেলেন
আম জনতা দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে আমজনতা দলের সদস্যসচিব মো. তারেক রহমানের জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। তার প্রজাপতি প্রতীক পেয়েছে ১ হাজার ৪৪ ভোট।

প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী, এই আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ২২ হাজার ২৬৮টি, যা মোট ভোটের ৩৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। এখানে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী সাইফুল আলম ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক কোদাল প্রতীকে পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। একই আসনে বাতিল ভোট হয়েছে ২ হাজার ৪৪৪টি; এ হিসাবে বাতিল ভোটের সংখ্যার চেয়েও কম ভোট পেয়েছেন মো. তারেক রহমান।

নির্বাচন কমিশনের পরিপত্রে বলা আছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। প্রয়োজনীয় ভোট না পাওয়ায় মো. তারেক রহমানের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

জামানত কী?

জামানত হলো নির্বাচনি নিরাপত্তাজনিত নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ, যা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হয়। টাকা জমাদানের প্রমাণস্বরূপ ট্রেজারি চালান বা কোনো তফসিলি ব্যাংকের পে-অর্ডার বা পোস্টাল অর্ডার জমা দিতে হয়। একটি নির্বাচনি এলাকায় যত ভোট পড়ে, তার সাড়ে ১২ শতাংশ ভোট প্রার্থীরা যদি না পান, তাহলে তার জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত হয়। সে হিসাবে এবারও একটি বড়সংখ্যক প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। কিন্তু ঠিক কতজন প্রার্থী, তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায়নি। কোনো কোনো আসনে দেখা গেছে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীই জামানতের টাকা ফেরত পাওয়ার মতো ভোট পাননি। প্রতিটি নির্বাচনে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। ন্যূনতম ভোট না পেয়ে জামানতের টাকা রক্ষা করতে পারেন না প্রার্থীরা।

জামানতে কত টাকা?

বর্তমানে সংসদীয় আসনের জন্য প্রার্থীদের ২৫ হাজার টাকা, উপজেলা নির্বাচনে ১০ হাজার টাকা আর পৌরসভা নির্বাচনে ভোটার সংখ্যার হিসাবে জামানতের টাকা আগে জমা দিতে হয়। পৌরসভা নির্বাচনে অনধিক ২৫ হাজার ভোটারের এলাকায় ১৫ হাজার টাকা, ২৫ হাজার ১ থেকে ৫০ হাজার ভোটারের এলাকায় ২০ হাজার টাকা, ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ভোটারের এলাকার জন্য ২৫ হাজার টাকা এবং ১ লাখের বেশি ভোটারের এলাকার জন্য ৩০ হাজার টাকা জামানত জমা রাখতে হয় নির্বাচন কমিশনে।

নির্বাচন শেষে কমিশন জামানত বাতিল হওয়া প্রার্থীদের একটা তালিকা করে। সেই তালিকা অনুযায়ী বাতিল হওয়া জামানতের টাকা অ্যাকাউন্টেন্ট জেনারেলের অফিসের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়। আর যেসব প্রার্থী জামানত হারাননি, গেজেট প্রকাশের পর নির্বাচন কমিশন অফিসের মাধ্যমে জামানতের টাকা তারা তুলে নিতে পারেন। কিন্তু জামানত তুলে নেওয়ার মতো অবস্থায় থেকেও আসলে কতজন প্রার্থী তাদের সেই টাকা তুলে নিতে আবেদন করেন তা নিয়েও সংশয় আছে। যদিও এ-সংক্রান্ত কোনো হিসাব নির্বাচন কমিশনের কাছে নেই।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...