আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জামায়াত আমিরের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

স্টাফ রিপোর্টার

জামায়াত আমিরের সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্স রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন।

সোমবার দুপুর ২টায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এসময় জামায়াত আমিরের সঙ্গে দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডেভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

পরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আমেরিকান রাষ্ট্রদূত আমাদের এখানে এসেছিলেন। তার সঙ্গে একজন সফরসঙ্গী ছিলেন। এই পরিবর্তনের পরে আমাদের অফিসে প্রায় সব দেশের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সরা এছেছিলেন। তারেই ধারাবাহিকতায় আজ আমেরিকান অ্যাম্বাসডর আসেন। তারা তো বাংলাদেশের ব্যাপারে কনসার্ন আছেন। তারা বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন। বিশেষ করে যে সংস্কার হচ্ছে, সেটা কিভাবে হচ্ছে, কীভাবে ঐকমত্যে পৌঁছা যাবে, নির্বাচনের প্রস্তুতি কেমন, এখানে কোন নিরাপত্তার হুমকি আছে কিনা, আমেরিকা-বাংলাদেশ বিজনেস এবং ইনভেস্টমেন্ট বিষয়ে কথা হয়েছে। বিশেষ করে আমাদের এই অঞ্চলে যে নিরাপত্তা হুমকি আছে, সেসব বিষয়ে আমাদের অবস্থান, সন্ত্রাসবাদ বিষয়ে আমাদের মত ও বাংলাদেশের অবস্থান এবং নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে আমাদের মতামত জানতে চেয়েছেন।

তিনি বলেন, আমরা বলেছি, আমরা মৌলিক সংস্কার চাই। বাংলাদেশে যেন দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির রাজনীতি ফিরে না আসে-সে ব্যাপারে আমরা দৃঢ় ভূমিকায় আছি। আমরা দুর্নীতিমুক্ত একটা বাংলাদেশ গড়তে চাই। এছাড়া আমরা সবসময় গণতন্ত্রের পক্ষে। আমরা আরও বলেছি, আমাদের পররাষ্ট্রনীতি হলো-‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে শত্রুতা নয়’ যে আন্তর্জাতিক থিওরি ও থিম কাজ করছে, আমরা সেভাবেই কাজ করতে চাই। সম্মান, সমঝোতা ও কমন স্বার্থের মাধ্যমে চলতে চাই। আমেরিকার সঙ্গেও সেভাবেই কথা বলেছি। আমরা সব প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্মান এবং অধিকারে বিশ্বাস করি। মৌলিকভাবে এ কয়েকটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তারা বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক আরও উন্নত হবে। জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গেও তারা আগে থেকেই কাজ করেছে, আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। আমরা বলেছি, একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সহায়তার প্রয়োজন হলে যেন তা করে।

ডা. তাহের বলেন, এছাড়া আমেরিকা আমাদের দেশের ওপর যে ৩০ শতাংশ ট্যারিফ বসিয়েছে, এতে বিশেষ করে আমাদের গার্মেন্ট খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জামায়াত আমির এ বিষয়টি বিবেচনা করার জন্য আমেরিকার সরকার ও প্রেসিডেন্টকে বিশেষ অনুরোধ করেছেন। ট্যারিক কমিয়ে দিয়ে যেন একটা সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসে, যাতে বাংলাদেশের গার্মেন্ট এবং অন্যান্য পণ্য রপ্তানি যেন অব্যাহত রাখতে পারি।

তিনি বলেন, বিশেষ কোন দেশের বিষয়ে কথা হয়নি। আমরা বলেছি, আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়ে আমরাও কনসার্ন। সুতরাং যেখানে পারস্পরিক সহযোগিতা করা সম্ভব এবং প্রয়োজন, সেখানে সহযোগিতার বিষয়ে আমরা একমত পোষণ করেছি।

ঢাকায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের কার্যালয় স্থাপনের বিষয়ে কোন আলোচনা হয়েছে কিনা-জানতে চাইলে ডা. তাহের বলেন, এ বিষয়ে কোন আলোচনা হয়নি।

তবে এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান হলো- মানবতা, আমাদের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় অনুশাসনবিরোধী কোন কার্যক্রম করার জন্য যদি এখানে ষড়যন্ত্র থাকে তাহলে আমরা অবশ্যই এটার বিরোধিতা করব এবং বিরোধিতা করছি। যদি ইতিবাচক সাহায্যের জন্য হয় তাহলে এতে সমস্যা নেই। আমরা পর্যবেক্ষণে রেখে আমাদের ভূমিকা নির্ধারণ করব। যদি বাংলাদেশ ও জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, তাহলে আমরা এর বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করব।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...