আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

কৌশলের নামে গুপ্ত বা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বিএনপি: তারেক রহমান

আমার দেশ অনলাইন

কৌশলের নামে গুপ্ত বা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বিএনপি: তারেক রহমান
বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির কর্মীরা কৌশলের নামে গুপ্ত কিংবা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় তিনি এ কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন

তারেক রহমান বলেন, আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে দলের নেতাকর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকা রাখতে পারে, ষড়যন্ত্র করে কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ সেই দলকে দমন করে রাখতে পারবে না।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা কখনো কখনো হয়তো কিছুটা স্তিমিত হয়েছে কিংবা আন্দোলন কখনো তুঙ্গে উঠেছে। এই আন্দোলন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য গুম-খুন-অপহরণ, মিথ্যা মামলার হয়রানি, নির্যাতনের পরও বিএনপির একজন নেতাকর্মীও কিন্তু রাজপথ ছাড়েনি। একই পরিবারের এক ভাই গুম হয়েছে, আরেক ভাই গিয়ে তার জায়গায় পরের দিন রাজপথে আন্দোলনকে আরো তীব্রতর করার প্রতিজ্ঞার শপথ নিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। কৌশলের নামে গুপ্ত কিংবা সুপ্ত বেশ ধারণ করেনি বিএনপির কর্মীরা।’

তার ভাষ্য, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে দলের নেতাকর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের আপসহীন ভূমিকা রাখতে পারে, ষড়যন্ত্র করে কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ এই দলকে দমন করে রাখতে পারবে না।’

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘গুম-খুনের সেই বিভীষিকাময় দিনের বা রাতের অবসান হয়েছে। বাংলাদেশ, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। যেসব মানুষরা তাদের স্বজন হারিয়েছেন, যেসব মায়েরা তাদের সন্তান হারিয়েছেন, যেসব বোনেরা তাদের স্বামীকে হারিয়েছেন, যেসব সন্তানেরা তাদের পিতাকে হারিয়েছেন; তাদের সত্যিকারভাবে যদি বলতে হয়, আপনাদের সান্ত্বনা দেওয়ার মতো ভাষা বোধ হয় আমাদের কাছে নেই। এক দুঃসহ সময় আমরা অতিক্রম করেছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘অনেক সন্তান এখনো অপেক্ষায় আছে যে, তাদের সেই গুম বা হারিয়ে যাওয়া যেভাবে বলি, পিতা হয়তো হঠাৎ করে তাদের দরজায় এসে কড়া নাড়বে। অনেক মা হয়তো এখনো অপেক্ষায় আছেন, তার গুম হয়ে যাওয়া প্রিয় সন্তানটি হঠাৎ করেই মায়ের সামনে এসে হাজির হয়ে মা বলে ডাকবে।’

তারেক রহমান বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা গুম হয়েছেন, যারা শহীদ হয়েছেন; তাদের প্রতি আগামী দিনে গণতান্ত্রিক যে রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা আমরা করছি, সেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকারের অবশ্যই অনেক অনেক দায় ও দায়িত্ব রয়েছে। রাষ্ট্র কখনোই আপনাদেরকে ভুলে যেতে পারে না। সব শহীদের আত্মত্যাগকে জনমনে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী দিনে বিএনপি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধকতার কারণে এই মুহূর্তে আমি হয়তো বিস্তারিতভাবে সেই পরিকল্পনা আজকের এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরতে পারছি না।’

তিনি বলেন, ‘বলতে যদিও কষ্ট হচ্ছে, আমরা দেখেছি নির্বাচনের কমিশনের সম্প্রতি কিছু বিতর্কিত ভূমিকা বা বিতর্কিত অবস্থান। তারপরেও একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে চাই। তবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে গণতন্ত্রকামী মানুষ যেন এই শহীদ বা এই গুম হয়ে যাওয়া সদস্য—এখনো যাদের অপেক্ষায় আমরা আছি, এখনো যাদের অপেক্ষায় পরিবার রয়েছে, সেই শহীদদের আত্মত্যাগ থেকে প্রেরণা লাভ করতে পারে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আজ আবারও এই স্বজনহারা মানুষগুলোর সামনে আমি তুলে ধরতে চাই—ইনশাআল্লাহ, আমাদের দল বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র গঠনে, সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমরা এই শহীদ পরিবারদের নামে রাষ্ট্রের-দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কিংবা রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনার নামকরণ করব। যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই শহীদদেরকে গৌরবের সঙ্গে স্মরণ রাখতে পারে।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন