আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জামায়াত জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত, কোন দল কত পেল

আমার দেশ অনলাইন

জামায়াত জোটের আসন সমঝোতা চূড়ান্ত, কোন দল কত পেল

জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণা আসছে আজ বুধবার। বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীর নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে গতকাল মধ্যরাত পর্যন্ত সাংবাদিকদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। আজ বুধবার সকালে এ বিষয়ে আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে।

বিজ্ঞাপন
রোববার জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩০ আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। এছাড়া গতকাল শেষ মুহূর্তের আলোচনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টির বেশি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একইভাবে খেলাফত মজলিসকে আগের চেয়ে বাড়িয়ে ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭, এবি পার্টি ৩, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে দুটি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নেজামে ইসলাম পার্টি এবং খেলাফত আন্দোলনকে আসন দেওয়া হয়েছে কি না, নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে ১১ দলের আসন সমঝোতা নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার দিনভর বৈঠক করেন জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দলের নেতারা। সেখানে বিভিন্ন দলের আসন চূড়ান্ত করা হয়। তবে ইসলামী আন্দোলনের আসনপ্রাপ্তি নিয়ে এখনো অসন্তোষ আছে বলে জানা গেছে। এছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসেরও কিছু কাজ বাকি আছে। আজ দুপুরের আগে আরেক দফা বৈঠকে সেটি চূড়ান্ত হবে। এর পরই সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। এতে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ সব দলের শীর্ষ নেতাদের থাকার কথা রয়েছে।

সূত্রমতে, আসন সমঝোতা নিয়ে সবচেয়ে বেশি দরকষাকষি চলেছে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে। দলটির প্রত্যাশা ৭০টির বেশি আসন হলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ৪৫টি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এ নিয়ে দলটির অসন্তোষ থাকায় তারা সমঝোতায় শেষ পর্যন্ত থাকবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্তহীনতায় আছে। গতকাল মঙ্গলবার রাত ১২টার দিকে ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ জানান, তাদের মিটিং চলছে। সন্ধ্যার পর থেকেই এ ধরনের মিটিংয়ে বসে দলটি। তবে বুধবার সকাল পর্যন্ত তাদের কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।

জামায়াত সূত্র জানায়, ইসলামী আন্দোলনসহ সবাইকে ধরেই বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে দলটি এতে উপস্থিত থাকা-না থাকার বিষয়ে কিছুই জানায়নি। কোনো কারণে তারা এই সমঝোতায় না থাকলে সেক্ষেত্রে বাকি দলগুলোর সমন্বয়েই চূঢ়ান্ত ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জামায়াত নেতারা জানিয়েছেন।

এর আগে গত রোববার জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকে জাতীয় নাগরিক পার্টির ৩০ আসনে সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। এছাড়া গতকাল শেষ মুহূর্তের আলোচনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টির বেশি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। একইভাবে খেলাফত মজলিসকে আগের চেয়ে বাড়িয়ে ১০টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭, এবি পার্টি ৩, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে দুটি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), নেজামে ইসলাম পার্টি এবং খেলাফত আন্দোলনকে আসন দেওয়া হয়েছে কি না, নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই দলগুলো একটি করে আসন পেলেও জামায়াতের জন্য ১৮০টির বেশি আসন থাকবে।

সমঝোতার সর্বশেষ অবস্থান সম্পর্কে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, মঙ্গলবারের বৈঠকে সমঝোতার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। যেটুকু বাকি আছে, তা বুধবার দুপুরের আগে বসে শেষ করা হবে। বুধবার সংবাদ সম্মেলন হলে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।

এর আগে দীর্ঘদিনের প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে ১০ দলীয় নির্বাচনি সমঝোতার ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে আরো একটি দল যুক্ত হয়ে ১১ দলীয় সমঝোতায় রূপ নেয়। তবে আসন সমঝোতার বিষয়টি চূড়ান্ত না হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বেশ অস্থিরতা দেখা দেয়। সব দলই বাড়তি আসনে তাদের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেয়। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর মধ্যে আলাপ-আলোচনা ও দরকষাকষির একপর্যায়ে গত সোমবার রাতে এবং মঙ্গলবার দুপরের পর দফায় দফায় বৈঠক হয়। সেখানেই আসন সমঝোতার বিষয়টি মোটামুটি চূড়ান্ত পর্যায়ে আসে।

এসআই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...