জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেছেন, আমাদের এ মাদকের সমস্যাটা একপ্রকারে সো কলড প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আরোপিত মাদকের যুদ্ধ কিনা? যে রকম আমরা পড়েছি আফিমের যুদ্ধের সময়। সে রকম একটা মাদকের যুদ্ধ কিনা, আমাদের তরুণ প্রজন্মকে মাদকে বুঁদ করে এ দেশের মার্কেটকে দখল করা।
সোমবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
তরুণ প্রজন্ম মাদকের সমস্যায় জর্জরিত উল্লেখ করে আব্দুল্লাহ আল আমিন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত অধিবেশনে বলেছিলেন ঈদের পরে মাদকের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান। মাদকের বিরুদ্ধে সমস্যাটা সারাদেশের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন ঈদের পরে(অভিযান), সেটা কোন ঈদের পরে আমরা জানতে পারি? মাদকের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান না করতে পারলে, আমাদের তরুণ প্রজন্মকে কাজে না লাগাতে পারলে আমাদের অনেক পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে মানুষ রক্ত দিয়ে স্বৈরাচারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল উল্লেখ করে এনসিপির সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম বলেন, দুই বছর পরেও সেই স্বৈরাচারের বিষ দাঁত ভাঙতে দেখিনি। এখনো তাদের সন্ত্রাস চারিদিকে জারি রয়েছে। এখনো তারা জোর গলায় হুমকি দেয়। এত এত মানুষ হত্যার জন্য বিন্দুমাত্র অনুতপ্ত না। খুনি হাসিনা তার সিংহাসন টিকিয়ে রেখেছিল কালচারাল ফ্যাসিস্টদের দিয়ে। তাদের মোকাবিলার জন্য নিজস্ব দেশীয় কালচার রক্ষা করতে হবে।
কুষ্টিয়া, নাটোর, রাজশাহী জেলার চার উপজেলার পদ্মা চরে গড়া উঠা সন্ত্রাসী বাহিনী দমনে সংসদে দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) রেজা আহাম্মেদ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সময় কিন্তু এই সন্ত্রাসটা ছিল না। এখন মানুষ বলছে যে বিএনপি এসে সন্ত্রাস শুরু হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করব সে বিএনপির যে নেতাই প্রশ্রয় দিক এই বালুমহল বন্ধ করতে হবে।
তিনি বলেন, কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর, নাটোর জেলার লালপুর, রাজশাহী জেলার বাঘা, চারঘাট বিশাল চর এলাকা। চরে দুইটি বাহিনী জন্ম হয়েছে। চরের খাস জমি নিয়ে এবং বালুমহল নিয়ে কয়েকটি খুনাখুনি হয়েছে। শক্ত হাতে এই সন্ত্রাস দমনের অনুরোধ জানান বাচ্চু মোল্লা।
তার নির্বাচনি এলাকায় ৪২ কিলোমিটার সীমান্ত রয়েছে জানিয়ে রেজা আহম্মেদ বলেন, বর্ডারে এত ধরনের মাদক আছে, যা অকল্পনীয়। এই মাদক নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। পুলিশের তিনটি গাড়ির দুটি নষ্ট। অন্তত পাঁচটা পুলিশকে গাড়ি দেওয়া হোক।
বন্দর ব্যবস্থাপনা নিয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের এমপি শাহাদাত হোসেন সেলিম বলেন, বেসরকারি টার্মিনাল পরিচালনার জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন। বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি। ঠিকাদারদের কাজ ছেড়ে চলে যাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘উন্নয়ন কাজ থমকে গেছে। ইপিজি বা সংশ্লিষ্ট জটিলতা থেকে আমাদের মুক্ত হতে হবে, না হলে কোনো উন্নয়ন সম্ভব হবে না।’
পাঠ্যপুস্তক থেকে হাজী শরিয়ত উল্লাহ, তিতুমীরদের ইতিহাস হারিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা। তিনি বলেন, যাদের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে দেশপ্রেম এসেছে, তাদের ইতিহাস যাতে আগামীতে পাঠ্যপুস্তকে ফেরত আনা হয়।
হানজালা বলেন, প্রবাসীরা ফোন দিয়ে দুঃখের কথা বলে। তারা দেশের জন্য কাজ করছে। কিন্তু বিমানবন্দরে তারা হেনস্তা হচ্ছে। পাসপোর্টের জন্য হয়রানি হচ্ছে। প্রবাসীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানের দাবি করেন তিনি। হানজালা বলেন, এলাকায় কারেন্ট না থাকলে আমাকে ফোন দিয়ে বলেন, এমপি সাহেব কারেন্ট নাই কেন? কি যে এক ঝামেলায় আছি, বুঝাইতে পারব না! আমার কি দোষ? কি করে মানুষকে বুঝাবো। বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত সমাধানের আহ্বান করেন তিনি। বলেন, বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান না করলে মান-সম্মান ইজ্জত নিয়ে এলাকায় থাকা যাবে না।
জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, এই বাজেটে যে লক্ষ্যমাত্রাগুলো ধরা হয়েছে অনেকগুলোই স্বপ্নবিলাস। ঘাটতি মেটানোর দুটি পথের একটি হলো টাকা ছাপানো। এটি করা হলে মূল্যস্ফীতি অবধারিত।
এই সংসদ সদস্য বলেন, এ বাজেট বাস্তবায়নে প্রধান একটা অন্তরায় রয়েছে। জনগণ দুটি ভোট দিয়েছিল। একটি এমপি নির্বাচনের ভোট আরেকটি গণভোট। গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কার প্রস্তাব এখনো মানা হয়নি।
মাহবুবুর রহমান বলেন, বলা হচ্ছে যে, আমরা গণভোটের রায় মানতে বাধ্য নই। কাজেই এই কথা শোনার পর যারা গণভোটের রায় দিয়েছে হ্যাঁ এর পক্ষে তারা যদি একটা মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য, ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ার জন্য, ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য, যদি তারা আন্দোলনে নামে, তাহলে দেশের পরিস্থিতি কী হবে? তখন কি বাজেট মানার মত বাস্তবতা, পরিবেশ থাকবে মনে হয়? থাকবে না। কাজেই আমি মনে করি অভিলম্বে গণভোটের রায় অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার প্রস্তাব করে জনগণের মানের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা উচিত।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

