দ্বিতীয় দিনটা পুরোপুরিই পাকিস্তানের। এটা স্পষ্ট বলাই যায়। বল হাতে বাংলাদেশের ৬ ব্যাটারকে ফেরানোর পর ব্যাটিংয়ে ১ উইকেটে ১৭৯ রান তোলে পাকিস্তান। তাতে স্পষ্ট দ্বিতীয় দিনে কতটা দাপুটে ছিল পাকিস্তান।
বাংলাদেশকে ৪১৩ রানে গুটিয়ে দিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে পাকিস্তান। ২৩৪ রানে পিছিয়ে থেকে শেষ করেছে দিন। উদ্বোধনী জুটিতে ইমাম উল হককে সঙ্গে নিয়ে ১০৬ রানের জুটি গড়েন আজান আওয়াইস। পরে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আব্দুল্লাহ ফজলকে সঙ্গে করে ৭৩ রান যোগ করে দ্বিতীয় দিন শেষ করেন তিনি।
দারুণ শুরুর পর ফিরলেন ইমাম উল হক। ৭২ বলে ৪৫ রান করর ফিরেছেন তিনি। তাকে বিদায় করেছেন মেহেদি হাসান মিরাজ।
এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের ইনিংসে খেলা হয়েছে ১৪ ওভার। তবে এই সময়ের মধ্যে কোন স্পিনারই বোলিং করেননি। প্রতিটা ওভারই করেছেন পেসাররা। তাদেরকে বেশ দেখেশুনে খেলেছেন পাকিস্তানি ব্যাটাররা। বেশ কয়েকবার আউট হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশি বোলাররা। তবে শেষ পর্যন্ত আর আউট হননি।
অভিজ্ঞ ইমাম উল হকের সঙ্গে দারুণভাবে দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন অভিষিক্ত ওপেনার আজান আইওয়াস। এখন পর্যন্ত বিনা উইকেটে তারা দুজনে তুলেছেন ৭৪ রান।
বাংলাদেশের ৪১৩ রানের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করছে পাকিস্তান। চা বিরতিতে যাওয়ার আগে বিনা উইকেটে ৫০ রান তুলেছে দলটি।
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছিলেন, সময় নিয়ে হলেও ৪০০ কিংবা তার চেয়ে বেশি রান চান স্কোরবোর্ডে। পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিনে অধিনায়কের ওই কথা মান রেখেছে বাংলাদেশি ব্যাটাররা। প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানে অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।
প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১০১ রান করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৯১ রান আসে মমিনুল হকের ব্যাটে। আর ৭১ রান করেন মুশফিকুর রহিম। পাকিস্তানের হয়ে ফাইফার নেন মুহাম্মদ আব্বাস।
শেষ ১০ টেস্টে নিজেদের প্রথম ইনিংসে চারবার ৪০০ কিংবা তার চেয়ে বেশি রান করেছে বাংলাদেশ। এই চার ম্যাচের কোনটিই হারেনি বাংলাদেশ। এবারও কী ম্যাচ ভাগ্য সে পথেই হাঁটবে?
অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত বলেছিলেন প্রথম ইনিংসে ৪০০'র বেশি করার দিকেই বেশি নজর তার। ব্যাটাররা সেই ভিত্তি গড়ে দিলেও তা পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৪০০ রানের কোটা পার হয় তাসকিন আহমেদের দারুণ এক ছক্কায়।
মুহাম্মদ আব্বাসের বাউন্সার বুঝতে পারেননি ইবাদত হোসেন। উইকেটের পেছনে থাকা মোহাম্মদ রিজওয়ানের হাতে ক্যাচ তুলে দেন। তাতে ক্যারিয়ারের ৬ষ্ঠ ফাইফারের দেখা পেয়েছেন মুহাম্মদ আব্বাস। ফেরার আগে ইবাদতের ব্যাটে আসেনি কোন রান।
লাঞ্চের পর ব্যাটিংয়ে ফিরে প্রথম ওভারেই আউট মুশফিকুর রহিম। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বোল্ড হন তিনি।
শাহিনের করা ভেতরে ঢোকা বল ব্যাট-প্যাডের ফাঁকা জায়গা দিয়ে স্ট্যাম্পে ঢোকে। তাতেই আউট হন মুশফিক।
মধ্যাহ্ন বিরতিতে বাংলাদেশ হারিয়েছে ৩ উইকেট। বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৮০/৭।
২৩ বলে ১৭ রান করে আউট হয়েছেন তাইজুল ইসলাম। তাকে ফিরিয়েছেন মুহাম্মদ আব্বাস। ইনিংসে এটা তার চতুর্থ শিকার।
আগের বলেই এক ছক্কা হাঁকান মেহেদি হাসান মিরাজ। এর পরের বলেই আউট হয়েছেন। ১৩ বলে ১০ রান করে আউট হয়েছেন তিনি।
দ্বিতীয় দিনের শুরু থেকেই একের পর এক হুমকি তৈরি করছিলেন মুহাম্মদ আব্বাস। তার বলেই ফিরেছেন লিটন দাস। ৬৭ বলে ৩৩ রান করে আউট হয়েছেন তিনি।
উইকেটে নতুন ব্যাটার মেহেদি হাসান মিরাজ
মুহাম্মদ আব্বাসের বলে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ তুলে দেন মুশফিকুর রহিম। সেখানে থাকা আজান ওয়াইস 'ক্যাচ' তালুবন্দি করে বেশ উদযাপণও করেছিলেন। কিন্তু পরে টিভি রিপ্লেতে দেখা যায়, বল আসলে তিনি তালুবন্দি করতে পারেননি। বল তালুবন্দি হওয়ার আগে মাটি স্পর্শ করেছিল।
আজ মুশফিকুর রহিমের ৩৯তম জন্মদিন। ১০১তম টেস্ট খেলতে নেমে টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৯তম ফিফটির দেখা পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম।
১১৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেছেন তিনি। ফিফটি করার পথে তিনি হাঁকান ৬ চার।
টেস্ট ক্যারিয়ারে এটা তার ৪২তম ফিফটি প্লাস ইনিংস। এর আগে ৪১ টা ছিল তামিম ইকবালের। বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি পঞ্চাশোর্ধ রানের ইনিংস খেলার রেকর্ড মুশফিকুর রহিমের।
৪৮ রানে প্রথম দিন শেষ করা মুশফিকুর রহিমের সামনে আজ ফিফটি পূর্ণ করার সুযোগ। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে কি না সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে প্রথম দিনশেষ করেছিল বাংলাদেশ।