বাংলাদেশ ৩৯০ রানে অলআউট পর ব্যাটিংয়ে নেমেছিল পাকিস্তান। তবে আলোকস্বল্পতায় দুই ওভারের বেশি খেলা হয়নি। দিনের খেলা শেষ ঘোষণা করেছেন ম্যাচ অফিসিয়ালসরা। ৪৩৭ রানের লক্ষ্যে খেলতে নামা পাকিস্তান দেখেশুনে শুরু করেছিলেন। এই দুই ওভারে কোন রানই নেননি দুই ওপেনার আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল।
শেষ দুই দিনে পাকিস্তানের জয়ের জন্য দরকার ৪৩৭ রান।
সাজিদ খানের বলে মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে আউট হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। তাতে ৩৯০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। ফেরার আগে মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে এসেছে ১৩৭ তান।
৩৯০ রানে অলআউট হওয়া বাংলাদেশ পাকিস্তানকে ছুঁড়ে দিয়েছে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য। ম্যাচ জিততে শেষ দুই দিনে এই রান করতে হবে সফরকারীদের।
সাজিদ খানের বলে আউট হয়েছেন তাইজুল ইসলাম। ফেরার আগে তার ব্যাটে এসেছে ৫২ বলে ২২ রান।
অবশেষে সেঞ্চুরির দেখা পেলেন মুশফিকুর রহিম। ক্যারিয়ারের ১৪তম সেঞ্চুরি এটি তার। মমিনুল হককে পেছনে ফেলে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির মালিক এখন মুশফিক।
৯০ রানে অপরাজিত থেকে চা বিরতিতে গিয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। বিরতি থেকে ফিরে বেশ সাবধানী খেলছেন। তার শরীরী ভাষায় স্পষ্ট নার্ভাস নাইন্টিজে কাটা পড়তে চান না।
এর মধ্যেই মোহাম্মদ আব্বাসের বলে লেগ বিফোরের আবেদন ছিল পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের। এমন কী রিভিউও নিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত সফল হয়নি। মুশফিক সেঞ্চুরি পান কি না সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
বাংলাদেশ- ৩০৭/৬, ৭৯ ওভার, লিড- ৩৫৩
দ্বিতীয় সেশনে লিটন দাস ও মেহেদি হাসান মিরাজকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। দুই উইকেট হারালেও খুব একটা বিপদে পড়েনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। এগিয়ে যাচ্ছে দারুণ গতিতে। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ভর করে লিড সাড়ে তিনশ'র ওপারে নিয়েছে। চা বিরতির আগ পর্যন্ত বাংলাদেশের লিড ৩৫৩ রান। চা বিরতির আগে মুশফিকুর রহিম অপরাজিত আছেন ৯০ রানে।
চা বিরতির পর অপেক্ষা মুশফিকের সেঞ্চুরির। এরপরেও হয়তো আরও কিছুটা সময় ব্যাটিং করবে বাংলাদেশ। এরপরে ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানাবে।
খুররাম শেহজাদের বের হয়ে যাওয়া বলে বোল্ড হয়েছেন মেহেদি হাসান মিরাজ। ফেরার আগে তার ব্যাটে এসেছে ৩৯ বলে ১৯ রান। নতুন ব্যাটার তাইজুল ইসলাম।
সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের লিড ৩০০ পার হয়েছে। মুশফিকুর রহিম ও মেহেদি হাসান মিরাজের ব্যাটে ভর করে এগোচ্ছে বাংলাদেশ।
এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৫৫ রান (৬৯ ওভার)।
হাসান আলীর বলে সৌদ শাকিলের হাতে ক্যাচ তুলে ফিরেছেন লিটন। ফেরার আগে তার ব্যাটে আসে ৯২ বলে ৬৯ রান।
হাসান আলীর বের হওয়া শর্ট ডেলিভারিতে বল উড়িয়ে মারেন লিটন দাস। বলটা ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ থাকলেও বড় শট খেলার লোভে উড়িয়ে মারেন। আপার কাটে বলা সীমানা ছাড়া হয়নি। ডিপ থার্ডম্যানে দাঁড়ানো সৌদ শাকিল বলটা তালুবন্দি করেন।
এর আগে ৫৫ রানের মাথায় একবার জীবন পেয়েছিলেন লিটন দাস। সেবার ক্যাচ ফেলেন বোলার সাজিদ খান। জীবন পেয়েও ইনিংস খুব একটা বড় করতে পারলেন না লিটন।
ক্যারিয়ারের ৩০তম ফিফটির দেখা পেয়েছেন মুশফিকুর রহিম। ১০৪ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ২৩ রানে থেমেছিলেন। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে বেশ সাবলীলভাবে খেলে ফিফটি তুলে নেন তিনি।
খুররাম শেহজাদকে চার হাঁকিয়ে ক্যারিয়ারের ২০তম ফিফটির দেখা পেয়েছেন লিটন দাস। ৬৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন এই ডানহাতি ব্যাটার। প্রথম ইনিংসে ১২৬ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেছিলেন লিটন। দ্বিতীয় ইনিংসে এসে পেলেন ফিফটির দেখা। সেই ফিফটিকে সেঞ্চুরিতে রূপান্তর করতে পারেন কি-না সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেশনটা নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। তৃতীয় দিনের সকালে ব্যাট হাতে দারুণ দৃঢ়তা দেখিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও শক্তভাবে নিজেদের দিকে টেনে নিয়েছে স্বাগতিকরা।
প্রথম সেশনে বাংলাদেশ ২৬.২ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে তুলেছে ৯৩ রান। তাতে লিড বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪৯ রানে। সিলেট টেস্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেশন হিসেবে ধরা হচ্ছিল আজ সকালের সময়টাকে। সেখানে ব্যাটারদের দায়িত্বশীল পারফরম্যান্সে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশই।
দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৬ রানের লিড নিয়ে দিন শুরু করেছিল বাংলাদেশ। ক্রিজে ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। তবে দিনের শুরুতেই ধাক্কা খায় দল। ব্যক্তিগত ১৫ রানে খুররম শাহজাদের বলে আউট হন শান্ত। চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে যোগ করতে পারেন মাত্র ৫ রান।
এরপরই হাল ধরেন অভিজ্ঞ মুশফিক ও লিটন দাস। দুজন মিলে পাকিস্তানি বোলারদের হতাশ করে গড়ে তোলেন অবিচ্ছিন্ন ৮৮ রানের জুটি। লিটন খেলেছেন আত্মবিশ্বাসী ইনিংস, মধ্যাহ্নভোজ বিরতিতে তিনি অপরাজিত আছেন ৪৮ রানে। অন্যদিকে মুশফিক আছেন ৩৯ রানে।
এখন দ্বিতীয় সেশনেও বড় জুটির ধারাবাহিকতা ধরে রেখে পাকিস্তানের সামনে বিশাল লক্ষ্য ছুড়ে দেওয়ার সুযোগ টাইগারদের সামনে।
বাংলাদেশ- ১৫৪/৪, ৪১ ওভার, লিড- ২০০
নাজমুল হোসেন শান্তর বিদায়ের পর উইকেটে আছেন লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম। দুজন মিলে দারুণ ব্যাটিং করছেন। তাদের ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশের লিড ২০০ পার হয়েছে।
লিটন ২৩ ও মুশফিকুর রহিম ১৭ রানে অপরাজিত আছেন।
আগের ওভারেই একবার আউটের আবেদন করেছিলেন খুররাম শেহজাদ। সেবার লেগ বিফোরের শিকার হননি শান্ত। দ্বিতীয়বার আর ভুল করেননি খুররাম, শান্তকে ফিরিয়েই ছেড়েছেন। ফেরার আগে তার ব্যাটে এসেছে ১৫ রান।
এখন ক্রিজে নতুন ব্যাটার লিটন দাস।
বাংলাদেশ- ১১৪/৩, ৩০ ওভার, লিড ১৬০
গতকাল দিনের শেষ বলে আউট হন মমিনুল হক। ফলে আজ দিনের প্রথম বলে নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ক্রিজে আসেন মুশফিকুর রহিম। দিনের শুরু থেকে বেশ দেখেশুনে খেলছেন তারা দুজন। কোন তাড়াহুড়া করছেন না, বরং ধীরে এগোনোর পরিকল্পনায় খেলছেন তারা।
৩ উইকেটে ১১০ রান তুলে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল বাংলাদেশ। সে সময় লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের লিড ছিল ১৫৬ রান। তৃতীয় দিনে সেই লিড আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে মাঠে নামছে। হাতে আছে ৭ উইকেট। লিড যত বাড়বে, পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য তত বড় হবে। ম্যাচ জিততে বড় লিডের বিকল্প নেই বাংলাদেশের সামনে।