মাঠের ফুটবলে রূপকথার গল্প লিখল গণতান্ত্রিক কঙ্গো। ৫২ বছর আগে যে টুর্নামেন্ট থেকে শূন্য হাতে ফিরতে হয়েছিল, সেই মঞ্চেই এবার তারা তৈরি করল নতুন এক ইতিহাস। আটলান্টার মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে পজিশন ও আক্রমণে প্রতিপক্ষকে রীতিমতো কোণঠাসা করে উজবেকিস্তানকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়েছে আফ্রিকান এই দেশটি। আর এই দাপুটে জয়ের হাত ধরেই ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রাখল গণতান্ত্রিক কঙ্গো।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে কঙ্গো এগিয়ে থাকলেও, কাউন্টার অ্যাটাক থেকে প্রথম ধাক্কাটি দেয় উজবেকিস্তান। ম্যাচের মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় এল্ডর সমুরোদোভের দুর্দান্ত এক গোলে লিড নেয় এশিয়ার দলটি। এরপর গোল শোধে মরিয়া হয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে কঙ্গো। তবে প্রথমার্ধে এবং দ্বিতীয়ার্ধের বেশ কিছুটা সময় কঙ্গোর ফরোয়ার্ডদের দারুণভাবে আটকে রাখে উজবেক রক্ষণভাগ। ম্যাচের ৬৭ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলের এই লিড ধরে রেখেছিল উজবেকিস্তান।
ম্যাচের ৬৮ মিনিটে কঙ্গোর ভাগ্যবদল ঘটে। উজবেকিস্তানের আবদুকোদির খুসানোভ ডি-বক্সের ভেতর ক্রসে পা বাড়াতে গিয়ে ইয়োয়ানে উইসাকে ফাউল করে বসেন। পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। স্পট কিক থেকে ঠান্ডা মাথার ফিনিশিংয়ে কঙ্গোকে ১-১ সমতায় ফেরান ইওয়ান উইসা।
সমতায় ফেরার মাত্র ১০ মিনিটের মাথায়, অর্থাৎ ৭৮ মিনিটে ফিস্তন মায়েলে দুর্দান্ত এক গোল করে কঙ্গোকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে নেন। তবে ম্যাচের রোমাঞ্চ তখনো বাকি ছিল। ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে উইসা নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করলে ৩-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত হয় গণতান্ত্রিক কঙ্গোর।
এর আগে ১৯৭৪ সালে নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ আসরে অংশ নিয়েছিল কঙ্গো। সেবার জুগোস্লাভিয়ার কাছে ৯-০ গোলে বিধ্বস্ত হওয়াসহ ৩টি ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছিল তারা। দীর্ঘ ৫২ বছর পর এটি তাদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ আসর।
চলতি আসরের শুরু থেকেই অবশ্য ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছিল দলটি। প্রথম ম্যাচেই শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে চমক দেখায় তারা। দ্বিতীয় ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ১-০ গোলে হারলেও লড়াই ছাড়েনি। অবশেষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে এই অবিস্মরণীয় জয় তাদের নিয়ে গেল বিশ্বমঞ্চের শেষ ৩২-তে।
দীর্ঘ পাঁচ দশকের খরা কাটিয়ে কঙ্গোর এই রূপকথার পথচলা নকআউট পর্বে কতদূর যায়, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

