দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক ফার্স্ট লেডি কিম কন হিকে ঘুষ গ্রহণের মামলায় ২০ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। রাজনৈতিক সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে ইউনিফিকেশন চার্চের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে একটি ব্যাগ ও হীরার দুল গ্রহণের অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
একইসঙ্গে আদালত তাকে ১২.৮ মিলিয়ন ওন জরিমানা করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট নেকলেসটি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তদন্ত চলার সময় গত আগস্ট থেকেই কিম আটক ছিলেন।
কিম কন হি হলেন গত বছর ক্ষমতা থেকে বহিষ্কৃত দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের স্ত্রী। তিনি স্টক মূল্য কারসাজি ও রাজনৈতিক তহবিল আইন লঙ্ঘনের অন্যান্য অভিযোগ থেকে মুক্তি পেলেও এই ঘুষের মামলায় সাজা পেলেন।
মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রসিকিউটররা মুক্তি পাওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। অন্যদিকে কিমের আইনজীবীরা বলেছেন, সিউল কেন্দ্রীয় জেলা আদালতের রায় পর্যালোচনা করে তারা আপিল করবেন কিনা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।
রায় ঘোষণার সময় তিন বিচারপতির বেঞ্চের প্রধান বিচারক বলেন, ফার্স্ট লেডির পদে রাষ্ট্রীয় বিষয়ে জড়িত থাকার কোনো আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা না থাকলেও এটি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী একটি প্রতীকী ভূমিকা। বিচারকের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ধরনের পদে থাকা ব্যক্তি সব সময় আদর্শ নাও হতে পারেন, তবে তাকে জনসাধারণের কাছে খারাপ উদাহরণ হয়ে উঠতে দেওয়া উচিত নয়।
কিমের আইনজীবীদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তিনি আদালতের কঠোর সমালোচনা বিনীতভাবে গ্রহণ করেছেন এবং জনসাধারণের উদ্বেগ তৈরির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এদিকে আদালত প্রাঙ্গণের বাইরে ইউন ও কিমের সমর্থকরা ঠান্ডা আবহাওয়া উপেক্ষা করে রায় ঘোষণার পর উল্লাস করেন।
ইউনিফিকেশন চার্চ দাবি করেছে, উপহারের বিনিময়ে তারা কিছু প্রত্যাশা করেনি। চার্চের নেতা হান হাক-জা, যিনি নিজেও বিচারের মুখোমুখি, তিনি কিমকে ঘুষ দেওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এর আগে ২০২২ সালে ইউন সুক ইওল প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার আগ থেকেই কিম কন হি তার শিক্ষাগত রেকর্ড ও শেয়ারের দামের কারসাজি নিয়ে দীর্ঘদিনের সন্দেহের কারণে সমালোচনার মুখে ছিলেন। এছাড়া রাজনৈতিক দালাল ও ‘শামান’ হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তির সঙ্গে তার কথিত সম্পর্ক নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
অন্যদিকে ইউন সুক ইওল ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে সামরিক আইন জারির ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর বিদ্রোহসহ আটটি অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি। সামরিক আইন ডিক্রির পর তাকে গ্রেপ্তারের প্রচেষ্টায় বাধা দেওয়ার ঘটনায় দেওয়া পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে তিনি এই মাসে আপিল করেছেন। এছাড়া পৃথক আরেক বিচারে প্রসিকিউটররা বিদ্রোহের মূল পরিকল্পনাকারী অভিযোগে ইউনের মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন। ওই মামলার রায় আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি দেওয়ার কথা রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


‘খামেনির জন্য লাখ লাখ ইরানি জীবন দিতে প্রস্তুত’
বন্দী পাওয়ার পর সুর পাল্টে যুদ্ধবিরতি নিয়ে যা বলল ইসরাইল
ইইউ কি এ বছর শিশুদের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া নিষিদ্ধ করবে?