ইসরাইলের অতি ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির লেবাননের সঙ্গে হওয়া চুক্তিকাঠামোর তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক ভুল, একটি ভয়াবহ হাতছাড়া হওয়া সুযোগ এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের জন্য বিলাপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বেন গভির বলেন, ইসরাইলের উচিত হিজবুল্লাহকে ‘অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়া’ বা অবশ করা নয়, বরং তাদের ‘খুবলে পিষে’ ফেলা।
তিনি বলেন, এই চুক্তি হিজবুল্লাহকে একটি যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সেই ‘জীবনরেখা’ দিয়েছে, যা তারা ভিক্ষা করছিল। লেবাননের সেনাবাহিনী দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিজবুল্লাহকে নিষ্ক্রিয় করতে পারবে এমন দাবিকে তিনি একটি ‘বিপজ্জনক বিভ্রম’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
বেন গভির বলেন, ‘লেবাননের সেনাবাহিনী দুর্বল, তাদের বাহিনীতে অনুপ্রবেশ ঘটেছে। হিজবুল্লাহর সদস্য ও তাদের সমর্থকেরা এই সেনাবাহিনীরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। তারা কয়েক দশক ধরে হিজবুল্লাহর শক্তিবৃদ্ধি ঠেকাতে পারেনি আর এখনো কোনো পরিবর্তন হবে না।’
বেন গভির আরো জানান, এই চুক্তি সই হওয়ার আগে ইসরাইলি মন্ত্রিসভায় তিনি কয়েক সপ্তাহ ধরে এর বিরোধিতা করেছিলেন এবং ভবিষ্যতেও তিনি এর বিরোধিতা বজায় রাখবেন।
এদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের সঙ্গে হওয়া চুক্তিকাঠামোকে একটি ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ বলে বর্ণনা করেছেন।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘এই সমঝোতার অধীনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও লেবানন ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য যত দিন প্রয়োজন লেবাননের অভ্যন্তরে নিরাপত্তা অঞ্চল বজায় রাখার অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। হিজবুল্লাহ এবং বাকি সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো নিরস্ত্র না হওয়া পর্যন্ত এবং লেবানন থেকে ইসরাইলের প্রতি আর কোনো হুমকি না থাকা পর্যন্ত আমরা এটি ধরে রাখব।’
তিনি বলেন, ‘এটি ইরান ও হিজবুল্লাহর জন্য একটি বিরাট ধাক্কা। ইরান আমাদের ওপর দক্ষিণ লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, আমি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থের বিষয়ে দৃঢ় ছিলাম এবং আমাদের ওপর সেনা প্রত্যাহার চাপিয়ে দেওয়ার ধারণার জোরালো বিরোধিতা করেছি।’
নেতানিয়াহু বলেন, ‘লেবানন, ইসরাইল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মূলত ইরানকে বলছে ‘এটি আপনাদের কোনো ব্যবসার জায়গা নয়। এখানে আপনাদের কোনো অবস্থান নেই। আপনাদের কোনো সম্পৃক্ততা এবং কোনো ভূমিকা নেই।’
ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘ইসরাইল ও লেবানন হলুদ রেখার কাছাকাছি দুটি সংলগ্ন এলাকার বিষয়ে একমত হয়েছে, যা ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছিল। সেখানে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করা এবং লেবাননের সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে অঞ্চলটি হস্তান্তর করার জন্য একটি পাইলট কর্মসূচি চালানো হবে।’
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমরা ইরানের সন্ত্রাসের জোট ভেঙে দিচ্ছি, তবে আমরা ইরানের কূটনৈতিক জোট ও ভেঙে দিচ্ছি।’
সূত্র: আলজাজিরা
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


