ফের ইরান যুদ্ধ শুরু না করতে ট্রাম্পকে অনুরোধ তিন মুসলিম দেশের

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

ফের ইরান যুদ্ধ শুরু না করতে ট্রাম্পকে অনুরোধ তিন মুসলিম দেশের

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ইরান যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এ বিষয়ে সৌদি আরব ও কাতারের সঙ্গে একযোগে কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে দেশটি। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে ব্লুমবার্গ।

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউএই আরো সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলোর আশঙ্কা, আবারো সংঘাত শুরু হলে ইরানের পাল্টা হামলায় পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনীতি ভয়াবহ সংকটে পড়তে পারে।

সূত্রগুলো জানায়, ট্রাম্পের সঙ্গে পৃথক ফোনালাপে ইউএই, সৌদি আরব ও কাতারের নেতারা বলেছেন, সামরিক হামলার মাধ্যমে ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না। বরং আলোচনার সুযোগ দেওয়া উচিত।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউএইর এই অবস্থান দেশটির আগের কঠোর নীতির তুলনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ, অতীতে তেহরানের বিরুদ্ধে প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় আবুধাবি ছিল বেশি কড়া অবস্থানে।

যদিও ইরানের সঙ্গে কেমন ধরনের সমঝোতা হওয়া উচিত এবং কতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন এ বিষয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবু তারা সবাই আবারো ফেব্রুয়ারি-মার্চের মতো পরিস্থিতি ফিরে আসুক, তা চায় না।

উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ওই সংঘাতের সময় ইরান ও ইরানপন্থি ইরাকি গোষ্ঠীগুলো উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজারো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে বহু মানুষ নিহত হন এবং বন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের বিশ্লেষক ডিনা এসফানদিয়ারি বলেন, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো তাদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বাস্তব রূপ দেখেছে। তারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের মাঝখানে আটকা পড়েছিল এবং সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছে।

এদিকে যুদ্ধবিরতির পরও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা পুরোপুরি কমেনি। গত ৮ এপ্রিল উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এখনো শান্তিচুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। পাকিস্তানের মাধ্যমে দুই পক্ষ বার্তা আদান-প্রদান করছে বলে জানা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার বলেছেন, আলোচনায় সামান্য অগ্রগতি হয়েছে। একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছে ইরানি গণমাধ্যমও। একই দিনে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ইরান সফরের কথাও সামনে আসে, যা সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে, উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরো বেড়েছে সাম্প্রতিক এক ড্রোন হামলার ঘটনায়। গত রোববার ইউএইর একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা হয়, যার জন্য ইরান-সমর্থিত ইরাকি গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে আবুধাবি।

পরদিন ট্রাম্প জানান, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, ইউএই প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদের সঙ্গে তার কথা হয়েছে। তাদের অনুরোধেই তিনি ইরানে নতুন করে হামলার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর আশঙ্কা, ইসরাইলের চাপের মুখে ট্রাম্প আবারো ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন। ইসরাইল দীর্ঘদিন ধরেই ইরানকে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা আরো দুর্বল করতে অতিরিক্ত হামলার প্রয়োজন হতে পারে।

সূত্র: ব্লুমবার্গ

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন