যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেন ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনছে ভারত

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেন ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য কিনছে ভারত

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ভারত সফরকালে বলেছিলেন, আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে নয়াদিল্লি। তার এই বক্তব্য শুধু নয়াদিল্লিতেই নয়, বরং বিশ্বব্যাপী গণমাধ্যম, বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেছেন, ভারত ঠিক কী বিষয়ে সম্মত হয়েছে এবং এর বিনিময়ে তারা যথেষ্ট লাভবান হবে কিনা।

রুবিওর এই বক্তব্য খুবই তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ভারত ইতোমধ্যেই তার মুদ্রার দরপতন, তেলের উচ্চ মূল্য এবং বিশ্ব বাণিজ্যকে ঘিরে অনিশ্চয়তার সাথে লড়াই করছে। সমালোচকরা এখন প্রশ্ন তুলছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সম্পর্ক জোড়া লাগানোর চেষ্টা করতে গিয়ে নয়াদিল্লি ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি অসম চুক্তিতে প্রবেশ করছে কি না। ট্রাম্পের আগ্রাসী শুল্ক নীতি নয়াদিল্লিকে কোণঠাসা করে ফেলেছিল।

বিজ্ঞাপন

এই ৫০ হাজার কোটি ডলারের অঙ্কটি প্রথম সামনে আসে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে, যখন ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি অন্তর্বর্তীকালীন বাণিজ্য সমঝোতা ঘোষণা করে। সেই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেন, যা ভারতে বেশ স্বস্তি এনে দিয়েছিল। সে সময় হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল যে, ভারত জ্বালানি সরবরাহ, কয়লা এবং প্রযুক্তি সরঞ্জামসহ মার্কিন পণ্য কেনা বাড়াতে ইচ্ছুক।

যুক্তরাষ্ট্র কেনার তালিকায় উড়োজাহাজ ও উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ যুক্ত করেছিল। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল পরে এই পরিসংখ্যান নিয়ে উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেন। তিনি যুক্তি দেন যে ভারতের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতি এই ধরনের আমদানি সহজেই গ্রহণ করতে পারবে। তিনি বলেন, শুধুমাত্র ভারতের বিমান চলাচল খাত থেকেই পাঁচ বছরে প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারের চাহিদা আসতে পারে।

বিশ্লেষকরা এই চুক্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কেন

ফাইনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, এত বড় একটি আমদানি পরিকল্পনার সময়টা বেশ অস্বাভাবিক। কারণ ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বিশ্ব বাণিজ্যের পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে বদলে গেছে।

প্রাথমিক বাণিজ্য সমঝোতার পর, মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আগের কিছু শুল্ক ব্যবস্থার আইনি ভিত্তি বাতিল করে দেয়। এরপর ওয়াশিংটন পৃথক বাণিজ্য আলোচনা নির্বিশেষে বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর একটি নির্দিষ্ট ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করে।

এই পরিস্থিতিতে, বিশ্লেষকরা প্রশ্ন তুলছেন, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে আরো বড় ছাড় আদায় না করেই ভারত কেন এত বিপুল পরিমাণে মার্কিন পণ্য কেনার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরো প্রশ্ন তোলা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে আরো ভালো চুক্তি করার পরিবর্তে ভারত কেন বিমান চলাচলের মতো খাতে সরবরাহকারী পছন্দের সুযোগ সীমিত করবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি বড় আকারের আমদানি চুক্তি ভারতীয় অর্থনীতির জন্য এই কঠিন সময়ে আরো চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

মার্কিন শুল্ক ও অভিবাসন নীতি নিয়ে ভারতের উদ্বেগ

প্রতিবেদন অনুসারে, চীন ও পাকিস্তানের প্রতি ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব নিয়ে ভারতের অনেকেই উদ্বিগ্ন। ট্রাম্প সম্প্রতি ইরান সংঘাত সংক্রান্ত মধ্যস্থতায় জড়িত পাকিস্তানি নেতাদের প্রশংসা করেছেন। রুবিও পরে স্পষ্ট করে বলেন যে, ইসলামাবাদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ক ভারতের সঙ্গে তার অংশীদারিত্বে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত ভারতীয় পেশাজীবীরাও ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত কঠোর অভিবাসন নীতি নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই নতুন পদক্ষেপগুলো স্থায়ী বসবাসের অনুমতির অপেক্ষায় থাকা অনেক ভারতীয় প্রযুক্তি কর্মীকে প্রভাবিত করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে, ৫০০ বিলিয়ন ডলারের ক্রয় চুক্তিটি রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল এবং অর্থনৈতিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন