পলিটিকোর বিশ্লেষণ

ইরান যুদ্ধে সারা বিশ্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরান যুদ্ধে সারা বিশ্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত যুক্তরাষ্ট্র
ছবি: সংগৃহীত

ইরান যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক নিরাপত্তামূলক সম্পর্কগুলোকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে। একইসঙ্গে সারা বিশ্বেই দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর কাছে যুক্তরাষ্ট্রের মর্যাদা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে আদান-প্রদান করা বার্তায় এমনটাই উঠে এসেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম পলিটিকো এমনই কিছু বার্তা হাতে পেয়েছে। বুধবার এক বার্তায় বলা হয়, ইরানে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বিশ্বের তিনটি দেশে নড়বড়ে হয়ে পড়েছে আর দেশগুলো হলো বাহরাইন, আজারবাইজান ও ইন্দোনেশিয়া।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোতে কর্মরত কূটনীতিকরা ইরানকে ভয়াবহ হিসেবে উপস্থাপন করেন। তারা মিডিয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইরানপন্থি পক্ষের যুক্তরাষ্ট্রকে অবরোধের বয়ান কার্টুনচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরছেন।

আজারবাইজানে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের প্রতিপত্তি ধসে পড়েছে। বাহরাইনে সরকার প্রশ্নের মুখে পড়েছে যে, ইরানের ড্রোন ও মিসাইলের মুখে আমেরিকা তাকে ছেড়ে গেছে কি না। অপরদিকে ইন্দোনেশিয়া সরকারের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তার সম্পর্ক কমিয়ে আনার আহ্বান জোরালো হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দপ্তরগুলোর মধ্যে আদান-প্রদান করা কিছু বার্তায় বিভিন্ন দেশে আমেরিকাবিরোধী প্রচারের বিষয় তুলে ধরা হয়, যার কারণে তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়তে পারে। এছাড়া যুদ্ধের কারণে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ঝুঁকির বিষয়ও উল্লেখ করা হয়। এছাড়া ওয়াশিংটনের বিভিন্ন দেশের জনগণের আস্থা হারানোর বিষয়টি এসব বার্তায় উঠে এসেছে।

বার্তাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোকে ইরান যুদ্ধে বয়ানের লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করা থেকে মুক্তি দিতে ট্রাম্প প্রশাসনকে আহ্বান জানানো হয়। ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তার দূতাবাস থেকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়, দূতাবাসগুলোতে সহনশীলতা, দ্রুত ও প্রতিরক্ষামূলক সামাজিক মাধ্যমের স্বাধীনতা থাকতে হবে, যাতে করে বিশাল ডিজিটাল জগতে প্রভাব বিস্তারের চ্যালেঞ্জ নিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগুলোকে ইরান যুদ্ধের বিষয়ে কোনো ধরনের মৌলিক কনটেন্ট তৈরি না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর বদলে শুধু হোয়াইট হাউস বা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অনুমোদিত বার্তাই পোস্ট করতে পারবে দূতাবাসগুলো। পলিটিকোর কাছে এমন তথ্যই নিশ্চিত করেছেন আমেরিকান এক কূটনীতিক। একইসঙ্গে আমেরিকার বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে আদান-প্রদান করা বার্তায়ও এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বার্তাগুলোতে তুলে ধরা হয়, বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তি ক্রমেই কমছে। অপরদিকে আমেরিকান কূটনীতিকরা এ বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছেন। কেননা, পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে তাদের ইতোমধ্যেই পাশে সরিয়ে রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে বেশ কজন কূটনীতিককে বরখাস্ত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন