সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আলেপ্পোর কয়েকটি এলাকায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেছে। সেনাবাহিনী ও কুর্দি যোদ্ধাদের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের পর শুক্রবার ভোর থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। কয়েক দিনের সহিংসতায় হাজারো বেসামরিক মানুষ এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
সহিংসতায় অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন, যা ইসলামপন্থী কর্তৃপক্ষ ক্ষমতা নেওয়ার এক বছরের কিছু বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংঘর্ষ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মঙ্গলবার থেকে সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পোয় যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর সঙ্গে সরকারি বাহিনীর লড়াই চলছে। সংঘর্ষ শুরুর দায় নিয়ে উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে।
এই উত্তেজনার পেছনে কুর্দিদের প্রশাসনিক ও সামরিক কাঠামো নতুন সরকারের সঙ্গে একীভূত করার চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন রয়েছে। এসডিএফ বর্তমানে সিরিয়ার তেলসমৃদ্ধ উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে এবং ২০১৯ সালে ইসলামিক স্টেটের ভূখণ্ডগত পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আলেপ্পোর শেখ মাকসুদ, আশরাফিয়েহ ও বানি জেইদ এলাকায় ভোর ৩টা থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা হয়েছে, যাতে আবাসিক এলাকায় নতুন করে সামরিক উত্তেজনা এড়ানো যায়। কুর্দি যোদ্ধাদের শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টার মধ্যে এলাকা ছাড়ার সময়সীমা দেওয়া হয়েছে। লক্ষ্য হিসেবে বলা হয়েছে, বাস্তুচ্যুত বেসামরিক মানুষদের নিরাপদে নিজ নিজ ঘরে ফিরে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি করা।
এএফপি’র এক সংবাদদাতা জানান, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত আশরাফিয়েহ ও শেখ মাকসুদ এলাকায় তীব্র লড়াই চলেছে। অভিযানের আগে মানবিক করিডোর ব্যবহার করে বাসিন্দাদের সরে যেতে নির্দেশ দেয় সেনাবাহিনী। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের তথ্যমতে, প্রায় ১৬ হাজার মানুষ এলাকা ছেড়েছেন।
কুর্দি বাহিনীর পক্ষ থেকে সরকারি ঘোষণার বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এসডিএফ প্রধান মাজলুম আবদি বলেন, কুর্দি অধ্যুষিত এলাকায় হামলা সমঝোতার সম্ভাবনাকে ক্ষুণ্ন করছে। তিনি জানান, একীভূতকরণ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করতে তিনি সম্প্রতি দামেস্ক সফর করেছিলেন, যদিও বিকেন্দ্রীকৃত শাসনব্যবস্থাসহ বিভিন্ন মতভেদের কারণে অগ্রগতি থমকে আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আলেপ্পো এসডিএফের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলজুড়ে দামেস্ক ও এসডিএফের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতে তুরস্ক ও ইসরাইলও জড়িয়ে পড়তে পারে, যা দেশের স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠবে।
এদিকে আলেপ্পোর সহিংসতার প্রতিবাদে কুর্দি নিয়ন্ত্রিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কামিশলি ও তুরস্কের দিয়ারবাকিরে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। বিক্ষোভকারীরা ‘যুদ্ধ নয়’ ও ‘জাতিগত নির্মূল নয়’ স্লোগান তুলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

