ইরানের শেষ শাহের ছেলে ও নির্বাসনে থাকা বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি বলেছেন, ইরানের স্বাধীনতা খুব কাছাকাছি। দেশজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
পোস্টে পাহলভি বলেন, গত দুই সপ্তাহে, বিশেষ করে গত চার দিনে দেশব্যাপী ব্যাপক বিক্ষোভের মাধ্যমে ইরানি জনগণ “অবৈধ ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছে”। তিনি লেখেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্রকে উৎখাত করে ইরানকে পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তিনি “জাতীয় অভ্যুত্থানের একটি নতুন পর্ব” ঘোষণা করছেন।
রেজা পাহলভি আরও বলেন, “ইরানের স্বাধীনতা আসন্ন। আমরা একা নই। শিগ্গিরই আন্তর্জাতিক সহায়তা পাওয়া যাবে।”
অর্থনৈতিক সংকট, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও চরম মুদ্রাস্ফীতির কারণে ইরানে গত কয়েক দিন ধরে সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। চলতি দফার এই আন্দোলন শুরু হয় গত ২৮ ডিসেম্বর। বিক্ষোভ দ্রুতই দেশটির বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইরানি মানবাধিকার ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) জানিয়েছে, এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩৮ জন নিহত হয়েছেন এবং গ্রেপ্তার হয়েছেন ১০ হাজার ৬০০-এর বেশি মানুষ। রোববার দেওয়া এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, নিহত ও গ্রেপ্তারের প্রকৃত সংখ্যা সরকারি দমননীতি ও তথ্য গোপনের কারণে আরও বেশি হতে পারে।
তবে ইরানের সরকার এখন পর্যন্ত হতাহত বা গ্রেপ্তারের কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুরু থেকেই ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে আসছেন। তিনি একাধিকবার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকার যদি সহিংস ও নিষ্ঠুর পন্থায় বিক্ষোভ দমন করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশের ভেতরের ব্যাপক জন-অসন্তোষ, বিরোধী নেতৃত্বের সক্রিয়তা এবং আন্তর্জাতিক চাপ—সব মিলিয়ে ইরান এখন এক গভীর রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
এসআর/এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

