আফগানিস্তান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন ব্রিটিশ প্রিন্স হ্যারি। আফগানিস্তানে যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ন্যাটো অর্ন্তভুক্ত দেশগুলো সামনের সারি থেকে কিছুটা পিছিয়ে ছিল বলে মন্তব্য করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের ওই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কখনো প্রয়োজন হলে এই সামরিক জোট আদৌ পাশে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে তিনি ‘নিশ্চিত নন।’
সেখানে ট্রাম্প আরো বলেন, ‘আমাদের কখনোই তাদের প্রয়োজন হয়নি। আমরা তাদের কাছ থেকে সত্যি বলতে তেমন কিছু চাইওনি।
তারা বলবে, তারা আফগানিস্তানে কিছু সেনা পাঠিয়েছিল... পাঠিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তারা সামনের সারি থেকে একটু দূরে, একটু পেছনে ছিল।’
যুক্তরাজ্যে ট্রাম্পের এই মন্তব্য রাজনৈতিক বিভাজন পেরিয়ে সর্বত্র নিন্দার মুখে পড়ে। প্রিন্স হ্যারির এই মন্তব্য আসে ফক্স নিউজকে দেওয়া ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক সাক্ষাৎকারের পর।
সাসেক্সের ডিউক প্রিন্স হ্যারি ন্যাটো সেনাদের আত্মত্যাগ নিয়ে ‘সত্য ও সম্মানের সঙ্গে কথা বলার’ আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার আফগানিস্তান যুদ্ধে নিহত ন্যাটো সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে প্রিন্স হ্যারি বলেন, ‘আমি সেখানে দায়িত্ব পালন করেছি। সেখানে আমি আজীবনের বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছি। আবার সেখানেই আমি বন্ধুদের হারিয়েছি।’
প্রিন্স হ্যারি আফগানিস্তানে দুইবার দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
তিনি জানান, ওই যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের ৪৫৭ জন সেনাসদস্যসহ বহু ন্যাটো সেনা নিহত হন।
প্রিন্স হ্যারি আরো বলেন, ‘২০০১ সালে ন্যাটো ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্রবারের মতো অনুচ্ছেদ ৫ কার্যকর করে। এর অর্থ ছিল, আমাদের যৌথ নিরাপত্তার স্বার্থে আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে দাঁড়ানো প্রতিটি মিত্র দেশের জন্য বাধ্যতামূলক। মিত্র দেশগুলো সেই ডাকে সাড়া দিয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষের জীবন চিরতরে বদলে গেছে। অনেক মা–বাবা তাদের ছেলে-মেয়েকে হারিয়েছেন। অনেক শিশু বাবা বা মাকে হারিয়ে বড় হচ্ছে। পরিবারগুলো এখনো সেই ক্ষতির বোঝা বহন করছে। এই আত্মত্যাগগুলোর কথা সত্য ও সম্মানের সঙ্গে বলা উচিত, কারণ কূটনীতি ও শান্তির পক্ষে আমরা সবাই এখনো ঐক্যবদ্ধ ও অটল।’
সূত্র: বিবিসি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


ট্রাম্পের মন্তব্য অপমানজনক, আমি হলে ক্ষমা চাইতাম: ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
ইসরাইলের অস্ত্র পরিবহনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বেলজিয়াম
ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ কি জাতিসংঘকে দুর্বল করে তুলবে?