ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করার প্রেক্ষাপটে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, ইরানে সম্ভাব্য হামলার বিভিন্ন কৌশল ও লক্ষ্যবস্তুর বিষয়ে তাকে ইতোমধ্যে ব্রিফ করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও এখনো হামলার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি ট্রাম্প, তবে সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি তিনি গুরুত্বসহকারে ভাবছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ইরানের কোথায় এবং কীভাবে আঘাত হানা যেতে পারে, সে বিষয়ে একাধিক পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে বেসামরিক স্থাপনায় হামলার সম্ভাবনাও রয়েছে।
এর আগে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছিল, প্রেসিডেন্টের নির্দেশ এলে ইরানের সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হতে পারে।
এদিকে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থান অব্যাহত রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে সহিংসতা চরমে পৌঁছানোর পর শুক্রবার ও শনিবারও দেশজুড়ে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নামেন। শুক্রবার রাতে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচার গুলির অভিযোগ উঠেছে।
বিবিসিকে দেওয়া তথ্যে তিনটি হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছেন, নিহত ও আহত মানুষের চাপে হাসপাতালগুলো উপচে পড়েছে। তেহরানের একটি হাসপাতালের চিকিৎসকের দাবি, তরুণদের মাথা ও বুক লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। একটি চক্ষু হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, রোগীর সংখ্যা এত বেশি ছিল যে হাসপাতালকে ‘ক্রাইসিস মোডে’ নিতে হয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও হতাহত হয়েছেন। এখন পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১৪ সদস্য নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
এসআর/এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

