আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

আর্থিক নাকি আদর্শিক সিদ্ধান্ত: ওয়াশিংটন পোস্টের গণছাঁটাই ঘিরে বিতর্ক

আমার দেশ অনলাইন

আর্থিক নাকি আদর্শিক সিদ্ধান্ত: ওয়াশিংটন পোস্টের গণছাঁটাই ঘিরে বিতর্ক
ছবি: সংগৃহীত।

১৪৫ বছরেরও বেশি পুরনো মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াশিংটন পোস্ট তার বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মী ছাঁটাই করেছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মী ও পত্রিকার নির্বাহীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এমন আকস্মিক ছাঁটাইয়ের কর্মীরা তাদের ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন।

বুধবার কর্মীদের সঙ্গে এক জুম বৈঠকে নির্বাহী সম্পাদক ম্যাট মারে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। মার্কিন মিডিয়ার বরাতে বলা হয়েছে, বৈঠকে তিনি জানান— পত্রিকার নিউজরুমে ‘উল্লেখযোগ্য’ পরিমাণ জনবল কমানো হবে। এর আগে নিউজরুমে আনুমানিক ৮০০ সাংবাদিক কর্মরত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

এই সিদ্ধান্তের ফলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদেশী ব্যুরো কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ক, ইউক্রেন কভারেজ এবং অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মতো দেশভিত্তিক ডেস্ক।

অ্যামাজন কভার করা ওয়াশিংটন পোস্টের টেক রিপোর্টার ক্যারোলিন ও'ডোনোভান এক্সে লিখেছেন, ‘আজ জেফ বেজোসের ওয়াশিংটন পোস্টে অ্যামাজন কভার করার কাজ থেকে আমাকে ছাঁটাই করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘ওয়াশিংটন পোস্টে প্রকাশিত প্রায় প্রতিটি প্রতিবেদনে বলা হতো— ‘অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ওয়াশিংটন পোস্টের মালিক’। আজ সেই কথাটি বিশেষভাবে তীব্র মনে হচ্ছে।’

সংবাদপত্রটির কায়রো ব্যুরো প্রধান ক্লেয়ার পার্কার জানান, সংবাদদাতা ও সম্পাদকসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্য ডেস্ককেই বরখাস্ত করা হয়েছে। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘যুক্তি বোঝা কঠিন। তবে আমার অসাধারণ সহকর্মীদের রিপোর্টিং ও পারস্পরিক নিষ্ঠার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। তাদের আমি খুব মিস করব।’

মার্কিন মিডিয়া বলছে, এই ছাঁটাই ব্যক্তিগত কর্মক্ষমতার কারণে নয়, বরং পুনর্গঠন ও আর্থিক সংকটের অংশ হিসেবে করা হয়েছে।

তবে কিছু সাংবাদিক দাবি করেছেন, এটি কেবল আর্থিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং আদর্শিক পরিবর্তনের ফল। জাতি ও জাতিগত বিষয়ক প্রতিবেদক ইমানুয়েল ফেলটন বলেন, ‘জাতিগত কভারেজ সাবস্ক্রিপশন বাড়ায়— এমন কথা শোনার ছয় মাস পরেই এই ছাঁটাই এলো। এটি কোনও আর্থিক সিদ্ধান্ত নয়, এটি একটি আদর্শিক সিদ্ধান্ত।’

সাম্প্রতিক সময়ে ওয়াশিংটন পোস্টের নিউজরুমে এটি সবচেয়ে বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে খেলাধুলা, আন্তর্জাতিক, স্থানীয় ও সাংস্কৃতিক কভারেজ মারাত্মকভাবে সংকুচিত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রাজনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা কভারেজেও প্রভাব পড়তে পারে।

জাতীয় সংস্কৃতি ও বিনোদন লেখক জাদা ইউয়ান এক্সে লিখেছেন, ‘বিশাল কাটছাঁটের অংশ হিসেবে আমিও ছাঁটাই হয়েছি। যুদ্ধক্ষেত্রে থাকা সহকর্মী, শিল্প দলের সদস্য এবং আমাদের পাঠকদের কথা ভাবছি।’

এদিকে ছাঁটাইয়ের খবরে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিফেন চিউং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভুয়া খবর ছাপানো কোনো লাভজনক ব্যবসায়িক মডেল নয়। যারা এতে আপত্তি করেন, তাদের অগ্রাধিকার নতুন করে ভাবা উচিত।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন