আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

‘আমার পা আগেই বেহেশতে গেছে’

আমার দেশ অনলাইন

‘আমার পা আগেই বেহেশতে গেছে’
ছবি: সংগৃহীত

ওমর হালাওয়া চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াল, কিন্তু সে বেমালুম ভুলে গিয়েছিল তার পা কেবল একটি। স্বাভাবিকভাবেই চেয়ার থেকে পড়ে যায় ১৩ বছরের ছেলেটি। গত বছরের অক্টোবরে পানি আনতে গিয়ে ইসরাইলি হামলার শিকার হয় ওমর। এরপর তার পা কেটে ফেলতে হয়।

ওমরের মা ইয়াসমিন হালাওয়া আল জাজিরাকে বলেন, ‘ওকে এভাবে দেখে আমাদের কষ্ট লাগে।’

বিজ্ঞাপন

তিন মাস আগে ওমর তার ডান পা হারায়। ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর ওমর তার ১১ বছর বয়সি বোন লায়ান, চাচাতো ভাই মোয়াথ হালাওয়া এবং বন্ধু মোহাম্মদ আল সিকসিককে নিয়ে উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকায় তাদের শিবিরের কাছে আসা একটি ট্যাংক থেকে পানি আনতে গিয়েছিল।

ইয়াসমিন বলেন, তারা ১৫ বারেরও বেশি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। উত্তর গাজায় পানি সরবরাহ খুব কমে গিয়েছিল। তাই শিবিরের শিশুরা ভোরবেলা উঠে এক গ্যালন পানির জন্য লাইনে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় গোলাগুলি। আমরা সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। পরে তিনি শুনতে পান, ওমর গোলাগুলিতে আহত হয়েছে। হাসপাতালে ওমরের একটি পা কেটে ফেলা হয়।

পরিবারটি তাদের তাঁবুর কাছে ওমরের কাটা পা দাফন করে। ওমর প্রতিদিন কবর জিয়ারত করে। বলে, ‘আমার পা আমার আগেই বেহেশতে গেছে।’

‘শিশুদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গা’

যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই ওমর মৃত্যু এবং ধ্বংসের সঙ্গে লড়াই করছে। ২০২৩ সালের নভেম্বরে ওমরের বোন লায়ান ইসরাইলি হামলায় আহত হয়। তাদের সামনে আট বছর বয়সী চাচাতো ভাই নিহত হয়। ইয়াসমিন বলেন, ‘এই ঘটনার পর আমার বাচ্চারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ওমর সবসময় ভয় পায়, এমনকি মেঝেতে চেয়ার নামানোর শব্দেও।’

ওমর ও লায়াল গাজার হাজার হাজার শিশুর মধ্যে দু’জন, যারা একটি নৃশংস গণহত্যার ক্ষত বহন করছে। গাজায় ইসরাইলের দুই বছরের হামলায় ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২০ হাজার শিশু। প্রায় ৪২ হাজার শিশু আহত হয়েছে।

ইউনিসেফের মুখপাত্র কাজেম আবু খালাফ আল জাজিরাকে বলেন, ‘গাজার শিশুরা শৈশব আনন্দ উপভোগ করার পরিবর্তে, বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর জায়গায় বাস করছে। যুদ্ধবিরতির পরেও ৯৫ জনেরও বেশি শিশু নিহত হয়েছে।’

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন