আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক ব্যয় ১০০ কোটি ডলার

সোহানুর রহমান শুভ

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক ব্যয় ১০০ কোটি ডলার

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিদিন মার্কিন করদাতাদের এক বিলিয়ন ডলার খরচ করছে। ৯ দিনের এই যুদ্ধে ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে এক হাজার ৭৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট খরচ ২০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম ডেইলি বিস্টের সাবেক প্রতিবেদক ও দ্য আটলান্টিকের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদদাতা ন্যান্সি ইউসুফ এই তথ্য জানান। যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল কর্মকর্তার বরাতে ইউসুফ জানান, ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পেন্টাগনের প্রাথমিকভাবে অনুমেয় ব্যয় প্রতিদিন এক বিলিয়ন ডলার’।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, তুরস্ক ভিত্তিক সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি এর অনুমান ও সংকলিত তথ্য বিশ্লেষণ করে জানায়, যুদ্ধের প্রথম চারদিনে ইরানের পাল্টা হামলায় প্রায় দুই বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম হারায় যুক্তরাষ্ট্র।

বুধবার পেন্টাগনের এক ব্রিফিংয়ে, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইঙ্গিত দেন, চলমান যুদ্ধ আট সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এতে পেন্টাগনের দৈনিক আনুমানিক এক বিলিয়ন ডলারের হিসাবে মোট খরচ ৫৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

মার্কিন সংবাদ মাধ্যম পলিটিকো যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) বিজ্ঞপ্তির উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, এই যুদ্ধ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে। সেক্ষেত্রে ২১৫ দিনের যুদ্ধে পেন্টাগনের প্রায় ২১৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে।

পেন ওয়ার্টন বাজেট মডেলের পরিচালক কেন্ট স্মেটার্স অনুমান করেছেন, এই ব্যয় আরো বেশি হতে পারে। মার্কিন বাণিজ্য ম্যাগাজিন ফরচুনকে তিনি বলেন, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলতে থাকলে করদাতাদের ওপর বাজেটের সরাসরি ৬৫ থেকে ৯৫ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে।

স্মেটার্স আরো বলেন, জ্বালানি, বাণিজ্য ঘাটতি ও আর্থিক অস্থিতিশীলতার কারণে আরো ১১৫ বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক ক্ষতি হতে পারে যা মোট ক্ষতির পরিমাণ ২১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।

আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটে কর্মরত পেন্টাগনের সাবেক সিনিয়র বাজেট কর্মকর্তা এলেইন ম্যাককাস্কার দ্য আটলান্টিককে বলেন, প্রথম বোমাটি নিক্ষেপের আগেই হামলা পূর্ব সামরিক বিন্যাসে (মধ্যপ্রাচ্যে এক ডজনেরও বেশি নৌযান এবং ১০০টিরও বেশি বিমান পুনঃস্থাপন) পেন্টাগনের ইতিমধ্যেই আনুমানিক ৬৩০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক খরচের এই অনুমানটি এসেছে যখন ট্রাম্প প্রশাসন একইসঙ্গে অভ্যন্তরীণ ব্যয় কমিয়ে দিচ্ছে। এতে ব্যয় হ্রাসের ব্যানারে লাখ লাখ আমেরিকানদের খাদ্য সহায়তা, স্বাস্থ্যসেবা ও ফেডারেল পরিষেবা কমেছে।

এই পরিসংখ্যান সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। নিউ ইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সাবেক সদস্য জাস্টিন ব্রানান বলেন, ‘উন্মাদ! আট সপ্তাহের জন্য প্রতিদিন এক বিলিয়ন ডলার! আমাদের ট্যাক্সের ৫৬ বিলিয়ন ডলার একটি অযৌক্তিক যুদ্ধে নষ্ট হয়েছে। ইতোমধ্যে আমেরিকান পরিবারগুলো ভাড়া দিতে এবং নিত্যপণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছে। এটি (যুদ্ধ) কীভাবে অগ্রাধিকার?’

ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে। যদিও তাৎক্ষণিকভাবে নতুন সর্বোচ্চ নেতার নাম ঘোষণা করা হয়নি।

নির্বাচন সংস্থার সদস্য মোহসেন হায়দারির বরাতে রোববার ইরানি সংবাদ সংস্থা আইএসএনএ জানায়, বিশেষজ্ঞ পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের দ্বারা অনুমোদিত সবচেয়ে উপযুক্ত প্রার্থী নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইরানি সংবাদ সংস্থা ফার্স কর্তৃক প্রচারিত একটি ভিডিওতে সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনি সংস্থার আরেক সদস্য মোহাম্মদ মেহেদী মীরবাঘেরি নিশ্চিত করে জানান, সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামত প্রতিফলিত করে এমন দৃঢ় মতামতে তারা উপনীত হয়েছেন।

ইরানের বিশেষজ্ঞ পরিষদের সদস্য আহমাদ আলামুলহোদা বলেছেন, নতুন নেতাকে নির্বাচনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি বলেন, এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণার বিষয়টি বিশেষজ্ঞ পরিষদের প্রধান হোসেইনি বুশেহরির ওপর নির্ভর করছে। তিনিই শিগগিরই এ সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে ঘোষণা করবেন।

সম্প্রতি আলী খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে তার পুত্র মোজতবা খামেনি আবির্ভূত হন। তবে সমালোচকরা এই পদক্ষেপকে ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ হিসেবে দেখায় তার নিয়োগ নিশ্চিত নয়। এছাড়া, ইরানের শিয়া মতাবলম্বী ধারার প্রজাতন্ত্রে পিতা-পুত্রের উত্তরাধিকারকে সমালোচনার চোখে দেখা হয়।

ইরানে ৩৭ বছর ধরে শাসন করা খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে নিহত হন। ইরানের সংবিধান অনুসারে, ৮৮ সদস্যের বিশেষজ্ঞ পরিষদ দেশের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত।

ইরানের নতুন নেতা নিয়ে ট্রাম্প-ইসরাইলের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তার অনুমোদন ছাড়া ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা ‘বেশি দিন টিকতে পারবেন না’। আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির উত্তরসূরি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তেহরানকে আগে তার সম্মতি নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প ।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নতুন নেতা নির্বাচনে অবশ্যই আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে। তা না হলে তিনি বেশিদিন টিকতে পারবেন না।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্ষদ দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হওয়ার খবর ঘোষণার পরই ট্রাম্প এ মন্তব্য করেন।

এদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী সতর্ক করেছে যে, তারা খামেনির স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নির্বাচিত যে কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করবে। সামাজিকমাধ্যম এক্সে ফারসি ভাষায় দেওয়া একটি পোস্টে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, খামেনির উত্তরসূরি নিয়োগের চেষ্টাকারী প্রত্যেক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তারা পদক্ষেপ নেবে।

ট্রাম্পকে ভুলের মাশুল গুনতেই হবেÑলারিজানি

ইরানে চলমান যুদ্ধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা সচিব আলী লারিজানি। এই যুদ্ধকে ট্রাম্পের ‘আন্তর্জাতিক ভুল হিসাব-নিকাশ’ আখ্যা দিয়ে এজন্য ট্রাম্পকে মাশুল গুনতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন লারিজানি। এর পূর্বে ইরান পিছু হটবে না বলে ঘোষণা দেন তিনি।

শনিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে লারিজানি বলেন, বর্তমানে ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে যা হচ্ছে- তা ট্রাম্পের ভুল আন্তর্জাতিক হিসাব-নিকাশের ফলাফল। তিনি ভেবেছিলেন- ভেনেজুয়েলায় তিনি যা করেছিলেন— এখানেও সেই একই মডেল প্রয়োগ করবেন।

লারিজানি আরো বলেন, তা করতে গিয়ে তিনি (ট্রাম্প) নিজেই ঝামেলায় পড়েছেন। এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত অচলাবস্থা তৈরি করেছে। ওয়াশিংটন এখন নিজেদের ভুল হিসাবের কাদাজলে আটকা পড়েছে। তবে আমরা ট্রাম্পকে ছাড়ব না। যে ভুল তিনি করেছেন, সেজন্য তাকে মাশুল গুনতেই হবে।

ছয় মাস ‘তীব্র যুদ্ধ’ চালানোর সক্ষমতা আছে ইরানের

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি জানিয়েছেন, বর্তমানে চলমান মাত্রার যুদ্ধ আরো অন্তত ছয় মাস চালিয়ে যেতে সক্ষম ইরান। মোহাম্মদ নাইনি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান গতির এই তীব্র যুদ্ধ অন্তত ৬ মাস চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। ইরানি সংবাদ সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সির বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর জানায়।

শত্রুকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড় দেবে না ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার ও রাস্তায় নামার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ইরানের মাটি ও পানি রক্ষায় সবার এগিয়ে আসা উচিত। জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ইরান শত্রুকে তার এক ইঞ্চি জমিও দখল করতে দেবে না।

ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন, যারা ইরানকে আক্রমণ করবে; তাদের বিরুদ্ধে তেহরান শক্ত অবস্থানে রয়েছে ও অত্যন্ত জোরালোভাবে এর জবাব দেওয়া হবে।

প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ইরান সুসম্পর্ক চায়- পুনর্ব্যক্ত করে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেন, অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড থেকে আসা হামলার জবাব দিতে ইরান বাধ্য হচ্ছে। তবে এর অর্থ এ নয় যে ওই নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে ইরানের কোনো বিরোধ রয়েছে।

ইসরাইল ও জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলা

ইসরাইলের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে চালানো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন ইসরাইলি আহত হয়েছে। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী বিষয়টি স্বীকার করেছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা ইসরাইলের বিভিন্ন শহর এবং জর্ডানের একটি বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

আইআরজিসির বরাতে ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি জানায়, রোববার ইসরাইলের তেল আবিব ও বিরশেবা শহরের সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলো নিশানা করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।

এদিকে জর্ডানের আজরাক শহরে অবস্থিত মুওয়াফ্ফাক আল-সালতি বিমানঘাঁটিতে বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়ে ইরান। আইআরজিসি এই ঘাঁটিকে ‘মার্কিন যুদ্ধবিমানের বৃহত্তম ও সবচেয়ে সক্রিয় আক্রমণাত্মক ঘাঁটি’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ২

সৌদি আরবের আল-খারজ শহরের একটি আবাসিক এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে এক বাংলাদেশিসহ দুজন নিহত হয়েছেন। নিহত অপর ব্যক্তি ভারতীয় নাগরিক। গতকাল রোববারের হামলার ঘটনায় আরো ১২ জন আহত হন। নিহত ও আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

সৌদি আরবের সিভিল ডিফেন্স এজেন্সি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করে। এর বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এ খবর প্রকাশ করে। এর আগে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানায়, তারা সৌদি আরবের আল-খারজসহ বিভিন্ন স্থানের রাডার সিস্টেম লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহত বেড়ে ৩৯৪

লেবাননে ইসরাইলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯৪ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৮৩ শিশু রয়েছে। এছাড়া, হামলায় অন্তত এক হাজার ১৩০ জন আহত হয়েছে।

রোববার লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর গত সোমবার থেকে লেবাননে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, তারা হিজবুল্লাহর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে।

ইসরাইলি হামলায় পাঁচ লক্ষাধিক লেবানিজ বাস্তুচ্যুত

ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘর্ষে মাত্র এক সপ্তাহে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানায় লেবানন। লেবানন সরকারের অনলাইন পোর্টালে নিবন্ধিত ব্যক্তিদের হিসাব করে পাঁচ লাখ ১৭ হাজার জন বাস্তুচ্যুত হওয়ার খবর জানায় দেশটি। প্রকৃত সংখ্যা আরো বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দক্ষিণ ও পূর্ব লেবাননের বিস্তীর্ণ অংশের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে আসা বিপুল সংখ্যক জনগণকে আশ্রয় দিতে হিমশিম খাচ্ছে দেশটির সরকার । এর আগে গত সপ্তাহে ইসরাইল দক্ষিণ লেবানন এবং বৈরুতের দক্ষিণ উপকণ্ঠের কয়েক ডজন গ্রামের বাসিন্দাদের যুদ্ধ তীব্রতর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়।

হিজবুল্লাহর হামলায় ইসরাইলের দুই সেনা নিহত

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর পাল্টা হামলায় ইসরাইলের দুই সেনা নিহত হয়েছে। ইসরাইলি ও হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই শুরু হওয়ার পর এই প্রথম ইসরাইলি সেনা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটল। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী বিষয়টি স্বীকার করেছে।

এদিকে উন্নত প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইসরাইলের হাইফা নৌঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে হিজবুল্লাহ। শনিবার রাতে উত্তর ইসরাইলের কিরিয়াত শমোনা শহর লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালানোর কথা জানায় তারা। এর আগে, একই শহর লক্ষ্য করে স্থানীয় বেশ কিছু ড্রোন হামলা করে গোষ্ঠীটি।

মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২০ হাজার ইতালি নাগরিককে প্রত্যাবাসন

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা শুরু হওয়ার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ থেকে নিজেদের নাগরিকদের সরিয়ে নিচ্ছে ইতালি। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্তোনিও তায়ানি জানান, এ পর্যন্ত তার ২০ হাজার ইতালি নাগরিককে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, উপসাগরীয় টাস্ক ফোর্সের ২০০ কর্মকর্তার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই প্রত্যাবাসন সম্ভব হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন