আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

ভেনেজুয়েলা পার্লামেন্টে সাধারণ ক্ষমা আইন পাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভেনেজুয়েলা পার্লামেন্টে সাধারণ ক্ষমা আইন পাস

ভেনেজুয়েলার ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি বৃহস্পতিবার সর্বসম্মতিক্রমে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি ‘ক্ষমা আইন’ অনুমোদন করেছে। এর ফলে সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে কারাবন্দি শত শত রাজনৈতিক নেতার মুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে যারা দেশের বিরুদ্ধে সামরিক তৎপরতায় উসকানি দেওয়া বা অংশগ্রহণের অভিযোগে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত, তারা এই ক্ষমার আওতায় পড়বেন না।

বিজ্ঞাপন

গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে মাদুরো আটক হওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন ডেলসি রদ্রিগেজ। ওয়াশিংটনের চাপে এবং তার প্রচেষ্টায় পাস হওয়া এই বিলে তিনি সই করেছেন। রাজধানী কারাকাসের মিরাফ্লোরেস প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে বিলটিতে সই করার পর রদ্রিগেজ বলেন, ‘মানুষকে যেমন ক্ষমা চাইতে জানতে হয়, তেমনি ক্ষমা গ্রহণ করতেও জানতে হয়।’

এই আইনের সুবিধা ১৯৯৯ সাল থেকে হওয়া আগের সব ঘটনার ক্ষেত্রেই পাওয়া যাবে। এর আওতায় সাবেক নেতা হুগো শ্যাভেজের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানের চেষ্টা, ২০০২ সালের তেল ধর্মঘট এবং ২০২৪ সালে মাদুরোর বিতর্কিত পুনর্নির্বাচনের পর ঘটা দাঙ্গার ঘটনাগুলোও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কারাবন্দিদের পরিবারগুলোর মনে স্বজনদের ফিরে পাওয়ার নতুন আশা জেগেছে।

তবে জনমনে শঙ্কা রয়েছে যে, সরকার এই আইন ব্যবহার করে নিজেদের লোকদের ক্ষমা করে দিতে পারে এবং প্রকৃত রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে পারে।

বিলের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, যারা বিদেশি রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে সশস্ত্র তৎপরতায় লিপ্ত ছিল, তারা কোনোভাবেই ক্ষমা পাবে না।

এদিকে জেনেভা থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই আইনের পরিধি কেবল মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত। যারা মানবতাবিরোধী অপরাধ বা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে জড়িত, তাদের এই আইনের আওতামুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সাবেক প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গত কয়েক বছরে শত শত ভেনেজুয়েলান নাগরিককে কারাবন্দি করা হয়েছে। অনেক বন্দির পরিবার কারাগারে নির্যাতন ও বিনা চিকিৎসায় ধুঁকতে থাকা স্বজনদের দুরবস্থার কথা জানিয়েছে।

মানবাধিকার সংস্থা ‘ফোরো পেনাল’-এর মতে, মাদুরোর পতনের পর থেকে প্রায় ৪৫০ জন বন্দি মুক্তি পেলেও এখনো ছয় শতাধিক মানুষ কারাগারে রয়েছেন।

স্বজনদের মুক্তির দাবিতে কয়েক সপ্তাহ ধরে কারাগারের বাইরে অবস্থান ও অনশন কর্মসূচি পালন করছে পরিবারগুলো।

ফোরো পেনালের পরিচালক গনজালো হিমিয়ব বলেন, ‘জাতীয় সমঝোতার জন্য সরকারের প্রকৃত সদিচ্ছা আছে কি না, তা প্রমাণের সুযোগ এখন ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির হাতে।’

সূত্র: বাসস

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...