যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধে ‘শাহেদ’ ড্রোন ব্যবহার করে সফলতা পেয়েছে ইরান। এই ড্রোনের কার্যকারিতা প্রত্যক্ষ করার পর যুদ্ধে ‘কামিকাজে’ আত্মঘাতী ড্রোন কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেদিকে নজর দিয়েছে তুরস্ক।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রাশিয়া ইউক্রেনে ইরানের শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে। এই বছর ইরানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ মার্কিন-ইসরাইলি যুদ্ধের সময় সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার এবং ইসরাইলে ইরানের হামলাগুলো ইঙ্গিত দেয় যে এগুলো দূরপাল্লার লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধেও কার্যকর।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলা এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া আধুনিক যুদ্ধকে বদলে দিচ্ছে। তুরস্ক ও ইসরাইলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করে দেখছেন তুর্কি কর্মকর্তারা। ২০২৪ সাল থেকে উভয় দেশই আঞ্চলিক আধিপত্যের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
স্কাইড্যাগার এবং তুর্কি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজসহ তুরস্কের বেশ কয়েকটি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান শাহেদের মতো ড্রোন তৈরি করে। তবে নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বায়কার সর্বপ্রথম তৈরি করেছে তিনটি পৃথক ‘কামিকাজে’ ড্রোন।
ড্রোনগুলো হলো: কে২, সিভরিসিনেক এবং মিজরাক। এগুলো পাল্লা এবং সক্ষমতার দিক থেকে ভিন্ন।
স্বল্পমূল্যের স্বয়ংক্রিয় ড্রোন:
যদিও প্রত্যেকটির এমন বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা শাহেদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে। তবে মূল পার্থক্য রয়েছে একটি স্তরযুক্ত আক্রমণ কৌশলে শত্রুদের বিরুদ্ধে এগুলো কীভাবে একসাথে কাজ করতে পারে তার মধ্যে।
কে২, একটি বড় ড্রোন যা ২০০ কেজি ওজনের গোলাবারুদ বহন করতে পারে। সেইসঙ্গে এটি গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম ব্যবহার না করেই দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লার মধ্যে ১৩ ঘন্টা উড়তে পারে।
এটি নিচের ভূখণ্ডের দৃশ্য স্ক্যান করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজের অবস্থান অনুমান করতে পারে এবং এর স্যাটেলাইট ডেটা লিঙ্ক বৈশিষ্ট্যের কল্যাণে নির্ভুলভাবে হামলা চালাতে পারে। ড্রোনটি হয় হামলায় নিজেকে ধ্বংস করে ফেলতে পারে অথবা পুনরায় ব্যবহারের জন্য ফিরে আসতে পারে।

সিভ্রিসিনেক (মশা), যা গত সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়েছে, সেটি এক হাজার কিলোমিটার পাল্লার মধ্যে উড়তে পারে এবং ২০ কেজির বেশি ওজনের ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম, যা ইরানের শাহেদ-১৩১ ড্রোনের সমতুল্য। শাহেদ-১৩১ ড্রোন ৭০০ থেকে ৯০০ কিলোমিটার পাল্লায় একই ধরনের পেলোড বহন করে।
সিভ্রিসিনেকের আনুমানিক মূল্য ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার ডলারের মতো হতে পারে। এটি সহজে একবার ব্যবহারযোগ্য হওয়ায় বিপুল সংখ্যায় ব্যবহার করা যেতে পারে।
বৃহস্পতিবার উন্মোচিত সর্বশেষ সংস্করণ মিজরাকের সঙ্গে শাহেদ-১৩৬ এর সাদৃশ্য রয়েছে।
বহু বছরের উন্নয়নের পর শাহেদ-১৩৬ যেখানে দুই হাজার কিলোমিটার পাল্লা এবং ৫০ কেজি ওয়ারহেডের অধিকারী, সেখানে মিজরাক হঠাৎ করেই এক হাজার কিলোমিটার পাল্লা এবং ৪০ কেজি পেলোড নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে।
এই তিনটি ‘কামিকাজে’ ড্রোন ইলেকট্রনিক যুদ্ধ প্রতিরোধ করতে সক্ষম, জিএনএসএস ছাড়াই দৃশ্যত লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করতে পারে এবং নিজস্ব স্বয়ংক্রিয় ক্ষমতা ও স্যাটেলাইট সংযোগ ব্যবহার করে আক্রমণ পরিচালনা করে।
আঙ্কারা-ভিত্তিক সেন্টার ফর এরিয়া স্টাডিজের ইরানের সামরিক সক্ষমতা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হুরসিত ডিঙ্গিল বলেন, ‘ইরানের ড্রোন কর্মসূচিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় এবং নেটওয়ার্ককেন্দ্রিক ঝাঁকবদ্ধ আক্রমণের প্রমাণিত দক্ষতার অভাব রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ইরানের ইউএভি কর্মসূচির নির্ভুল আঘাত হানার ক্ষমতা, উন্নত ইলেকট্রো-অপটিক্যাল ইমেজিং এবং আত্মরক্ষা ও দিকনির্দেশনা ক্ষমতার ক্ষেত্রে অসুবিধা ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তুর্কি সংস্থাগুলোর এই দক্ষতাগুলো আছে।’
এখন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বায়কার এই তিনটি ড্রোনকে সমন্বিত হামলায় একত্রিত করার পরিকল্পনা করছে।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


যুক্তরাষ্ট্রের চোখে ধুলো দিয়ে ২২ কোটি ডলারের তেল নিয়ে এশিয়ায় ইরান
ইরান ‘অসদাচরণ’ করলে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের