ইরানে চলমান তীব্র সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং সৃষ্ট অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলো একের পর এক বাতিল করা হচ্ছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) লুফথানসা, ফ্লাইদুবাই, তুর্কিশ এয়ারলাইনস, কাতার এয়ারওয়েজ ও অস্ট্রিয়ান এয়ারলাইনসের মতো বড় সংস্থা ইরানে তাদের কার্যক্রম স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে।
দুবাই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইদুবাই এককভাবে তেহরান, শিরাজ ও মাশহাদগামী অন্তত ১৭টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এমিরেটস ও ওমান এয়ারের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি দেখা গেছে।
তুরস্কের জাতীয় বিমান সংস্থা তুর্কিশ এয়ারলাইনসও সাম্প্রতিক পরিস্থিতিকে কারণ হিসেবে দেখিয়ে তেহরান ও তাবরিজসহ বিভিন্ন রুটের ১৭টি ফ্লাইট স্থগিত করেছে। তাদের সহযোগী সংস্থা এ-জেটও একই পথ অনুসরণ করেছে।
ফ্লাইট বাতিলের পেছনে মূল কারণ হলো, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে রিয়েলের অবমূল্যায়নকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন সরকার পরিবর্তনের বড় আন্দোলনে রূপ নিয়েছে, যা বিমান চলাচলের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। বিমান সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে শিশুসহ অন্তত ৫০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন এবং ব্যাপক ধরপাকড় চলছে। স্থানীয় সংবাদ সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, দাঙ্গার অভিযোগে কয়েকশ মানুষকে আটক করা হয়েছে।
বিক্ষোভ, সহিংসতা এবং যোগাযোগবিচ্ছিন্নতার কারণে আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো আপাতত ইরানে তাদের পরিষেবা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

